পুজোর মুখে আবহাওয়ায় বড় স্বস্তি! নিম্নচাপের ভ্রূকুটি থাকলেও কি পণ্ড হবে শেষ মুহূর্তের শপিং?

দুর্গোপূজোর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, আর কেনাকাটার আনন্দে মেতে উঠেছে গোটা বাংলা। ঠিক এই সময়েই আবহাওয়া নিয়ে বড়সড় আপডেট দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। উৎসবের মরশুমে রাজ্যবাসীর জন্য স্বস্তির খবর এই যে, আগামী রবিবার পর্যন্ত রাজ্যে ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে পুজোর শপিং বা প্যান্ডেল হপিংয়ের আনন্দে জলের ছাঁট পড়ার আশঙ্কা আপাতত অনেকটাই কম। তবে স্বস্তির খবরের পাশাপাশি রয়েছে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তিও। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি বজায় থাকবে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে, উত্তর আন্দামান সাগর এবং সংলগ্ন মায়ানমার উপকূলের উপর অবস্থানরত নিম্নচাপটি ইতিমধ্যেই গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আগামী দুই দিনের মধ্যে মায়ানমার উপকূল বরাবর উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বিহার থেকে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের ওপর দিয়ে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখাও বিস্তৃত রয়েছে। এই ঘুর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপের জেরে বাংলাদেশ ও মায়ানমার উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল থাকবে। উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি কোনো বিপদ না থাকলেও মৎস্যজীবীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ও আগামিকাল বুধবার—এই দু’দিন মৎস্যজীবীদের উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরের গভীরে যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ উপকূলের দিকেও যেতে বারণ করা হয়েছে। তবে উপকূলবর্তী এলাকার জেলেদের জন্য আপাতত বড় কোনো বিপদের সতর্কবার্তা নেই। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের আকাশ মূলত আংশিক মেঘলা থেকে পরিষ্কার থাকবে এবং বিক্ষিপ্তভাবে দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের উপরের দিকের জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সব মিলিয়ে, পুজোর আগে ভারী বৃষ্টির কালো মেঘ কেটে যাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে সাধারণ মানুষ।