পুজোর পরেই বড় চমক পুরভোটে! প্রার্থী হতে সরাসরি ডাক দিল বিজেপি, এল ‘ড্রপবক্স’ ফর্মুলা—ঘোষণা সুকান্তর

আসন্ন দুর্গোৎসব মিটতেই রাজ্যে কড়া নাড়ছে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে সামনে রেখে একেবারে অভিনব ও চমকপ্রদ রণকৌশল ঘোষণা করল ভারতীয় জনতা পার্টি। রবিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানান, এ বারের পুরভোটে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলির গণ্ডি ভেঙে সরাসরি সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দলের ৬ মুরলিধর সেন লেনের নির্বাচনী কার্যালয়ে একটি বিশেষ ‘ড্রপবক্স’ রাখার ঘোষণা করেছেন তিনি।
সুকান্ত মজুমদার এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানান, শুধু রাজনৈতিক কর্মীরাই নন, বরং ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, সমাজসেবী বা সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকরা—যাঁরা এতদিন গ্যালারিতে বসে হাততালি দিয়েছেন, তাঁদের সরাসরি পিচে নেমে খেলার সুযোগ করে দিচ্ছে বিজেপি। এমনকি কোনো নাগরিক যদি নিজে স্বয়ং প্রার্থী হতে চান, তবে তিনিও ড্রপবক্সে নিজের নাম বা পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে জমা দিতে পারবেন। সোমবার থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
এ দিন একযোগে শাসকদল এবং বাম শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করে সুকান্ত দাবি করেন, গত ৪৯ বছরে কলকাতা শহর অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। তৃণমূল বা বাম জমানায় শহরজুড়ে যে ‘প্রোমোটার রাজ’ কায়েম হয়েছে, তা থেকে কলকাতাকে মুক্ত করে একটি স্বচ্ছ এবং আধুনিক পুরনিগম উপহার দিতে চায় বিজেপি। নির্বাচনের টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর জেতার ক্ষমতা, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং ওয়ার্ডে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রধান মাপকাঠি করা হবে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি, বর্তমান যুবসমাজকে শুধু ভোটার বা দর্শকের ভূমিকায় না থেকে নতুন কলকাতা গড়ার কারিগর হয়ে ওঠার আহ্বান জানান সুকান্ত। স্টার্টআপের বিকাশ, উন্নত গণপরিবহন, ডিজিটাল পরিষেবা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণ প্রজন্মকে সামিল করতে ওয়ার্ড ভিত্তিক সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি-র এই ড্রপবক্স ফর্মুলা এবং সর্বস্তরের কৃতি মানুষদের রাজনীতিতে টেনে আনার এই অভিনব উদ্যোগ আসন্ন পুরভোটের লড়াইকে যে আরও অনেকটাই জমিয়ে দেবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।