পুজোর এসে গেলো বুকিং কই? NBSTC-র আকর্ষণীয় প্যাকেজে মুখ ফেরাল পর্যটকরা

পুজো মানেই পাহাড়-জঙ্গলের হাতছানি এবং ঘোরার মরসুম। আর এই উৎসবের মরসুমেই উত্তরবঙ্গের পর্যটনে এক অভিনব ধাক্কা সামনে এল। পুজোর মরসুমে পর্যটকদের আকর্ষণ করতে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (NBSTC) একটি বিশেষ প্যাকেজ ট্যুর চালু করেছিল। যার আকর্ষণীয় নাম দেওয়া হয়েছিল ‘নিঝুম অরণ্যের পথে’। মহালয়ার পবিত্র দিন থেকে এই বাস সার্ভিস আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, যাত্রীর অভাবে এখনও পর্যন্ত রাস্তায় গড়ায়নি এনবিএসটিসি-র সেই বিশেষ গেরুয়া রঙের বাসের চাকা। জঙ্গলপ্রেমীদের জন্য দারুণ সুযোগ থাকলেও বাস্তবে তা চরম ঠান্ডার মুখে পড়েছে।

প্রখ্যাত সংবাদপত্র বর্তমান-এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, এনবিএসটিসি-র ওই বিশেষ গেরুয়া রঙের বাসে উত্তরবঙ্গের জঙ্গল ঘোরার জন্য কাঙ্ক্ষিত বুকিং একেবারেই মিলছে না। এই প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অশ্মিনীকুমার রায় অত্যন্ত হতাশার সুরে জানিয়েছেন যে, পর্যাপ্ত যাত্রী না হলে বাস চালানো মোটেও সম্ভব নয়। তাই তারা বর্তমানে নিরাশ হয়ে যাত্রীদের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা নিয়ে নানা মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

এই বিশেষ ‘নিঝুম অরণ্যের পথে’ প্যাকেজ ট্যুরে পর্যটকদের উত্তরবঙ্গের একাধিক মনোরম জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এনবিএসটিসি-র পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, বাসটি প্রতিদিন সকালে কোচবিহার থেকে নির্দিষ্ট সময়ে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। এরপর আলিপুরদুয়ার, রাজাভাতখাওয়া, জয়ন্তী, নিমাতি হয়ে চিলাপাতার গভীর জঙ্গল ঘুরে তা আবার নিরাপদে কোচবিহারে ফিরে আসার কথা ছিল। সকাল সাড়ে আটটায় বাস ছাড়ার সময় নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে, যাত্রীর চরম আভাই কেবল নয়, বরং বাসে উল্লেখযোগ্য কোনো বুকিংই হয়নি। সাকুল্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ জন যাত্রী বুকিং করায় বাকি সমস্ত সিট সম্পূর্ণ খালি পড়ে রয়েছে।

এর ফলে পরিবহণ নিগমের লাভ তো দূরঅস্ত, উল্টে বাস চালানোর ন্যূনতম জ্বালানির খরচ পর্যন্ত উঠছে না। এনবিএসটিসি সূত্রে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অন্তত ২০ জন যাত্রী একসঙ্গে না হলে বাস চালানো কোনোভাবেই লাভজনক নয়। এই একদিনের রোমাঞ্চকর ভ্রমণে যাত্রীপিছু ভাড়া রাখা হয়েছে ৫ হাজার টাকা করে। এই ভাড়ার মধ্যেই দুপুরের সুস্বাদু খাবারের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, বিকেলে চিলাপাতার জঙ্গলে আদিবাসী নৃত্য প্রদর্শনেরও আকর্ষণীয় ব্যবস্থা রয়েছে, যার জন্য অবশ্য দর্শনার্থীদের সামান্য আলাদা ফি প্রদান করতে হবে।

পরিবেশ এবং বনপ্রেমীদের কথা মাথায় রেখে মহালয়ার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ বাস সার্ভিসটি লক্ষ্মীপুজোর পরের দিন পর্যন্ত চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কোচবিহারের সুনীতি রোডে এনবিএসটিসি-র মূল গ্যারেজে বাসটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে বুকিংয়ের খরা কাটানোর জন্য যাত্রীদের সরাসরি উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের অফিসিয়াল কাউন্টার অথবা তাদের অনুমোদিত কোনো ট্যুর এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে, পুজোর এই মরসুমে জঙ্গল সফরের এমন লোভনীয় সুযোগ হাতছাড়া হতে বসেছে কেবল উপযুক্ত প্রচার ও পর্যটকদের আগ্রহের অভাবে।