পুজোর আগেই সুরেলা মমতা! নজরুল মঞ্চে ‘জাগো দুর্গা’ গেয়ে দর্শকদের মন জিতলেন মুখ্যমন্ত্রী

মহালয়ার পুণ্যলগ্নেই শুরু হয়ে গেল শারদ উৎসবের আবহ। এই উৎসবের আমেজে সামিল হলো রাজ্যের রাজনৈতিক মহলও। রবিবার বিকেলে তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’-র উৎসব সংখ্যা প্রকাশিত হলো নজরুল মঞ্চে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি নজর কাড়ল মুখ্যমন্ত্রীর আগমনী গান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার দুর্গাপূজার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “একসময় যারা বাংলাকে ব্যঙ্গ করে বলত, এখানে নাকি পুজো হয় না, সেই বিজেপি নেতাদেরই জবাব দিয়েছে ইউনেস্কো। আজ বাংলার দুর্গাপূজা বিশ্বের দরবারে ‘ইনট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর মর্যাদা পেয়েছে।” তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগেই ক্লাবগুলোকে সরকারি অনুদান দেওয়া হয়, যার ফলে এই উৎসবের ব্যাপ্তি আরও বেড়েছে।

এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরকারি সহায়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এ বছর ক্লাবগুলিকে শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, বিদ্যুতের বিলের ৮০ শতাংশ মকুব করা হয়েছে। দমকল থেকে শুরু করে পুরসভার বিজ্ঞাপন ব্যয়—সবকিছু বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে।” তিনি সকলের কাছে একটাই প্রার্থনা করেন, যেন সকলের পুজো আনন্দে কাটে।

রাজনৈতিক কথার বাইরে সকলের নজর কাড়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। মঞ্চে উপস্থিত গায়ক ও মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের অনুরোধে মুখ্যমন্ত্রী ‘জাগো দুর্গা’ গানে গলা মেলান। গান শেষে ইন্দ্রনীল সেন মুখ্যমন্ত্রীর শিল্পীসত্তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “উনি রাজনীতি না করলে শিল্পী হিসেবে অনেক দূর যেতেন।” জবাবে হাসিমুখে মমতা বলেন, “আমি তো শিল্পী নই। ছোটবেলায় গান শিখেছিলাম, আজও শুধু সুর-শব্দ দিয়ে কিছু বলতে পারি।”

মহালয়ার দিন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন করছেন। তার মাঝেই দলীয় মুখপত্রের এই অনুষ্ঠানে এসে তিনি সকলকে পুজোর শুভেচ্ছা জানান এবং পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীকে ধন্যবাদ দেন।