পাতে খাবার ফেলার আগে সাবধান! ভারতে প্রতিদিন কত কোটি কেজি খাবার নর্দমায় যায় জানলে চমকে উঠবেন

খাবার মানুষের মৌলিক অধিকার ও বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ১৬ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’, যার মূল উদ্দেশ্যই হলো খাদ্য অপচয় রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) উদ্যোগ অনুযায়ী ১৯৮১ সালে প্রথমবার এই দিবস পালিত হয়েছিল। থালায় ততটুকুই খাবার নেওয়া উচিত যতটুকু পেটের ক্ষুধা মেটাতে প্রয়োজন। অথচ জাতিসংঘের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৭.৮ কোটি টন খাবার অপচয় হয়, যার গড় দৈনিক দাঁড়ায় প্রায় ২১.৪ কোটি কেজি। বিশ্বের ‘ফুটওয়েস্টেজ ইনডেক্স রিপোর্ট ২০২৬’ অনুসারে, সারা বিশ্বে প্রতি বছর ১.০৫ কোটি টন খাবার নষ্ট হয়, যা মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ও নতুন রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ভারত আজ বিশ্বের শস্য রপ্তানির এক অন্যতম বিশাল কেন্দ্র। প্রায় ৭৬টি দেশে চাল, ডাল, চিনি, সর্ষে ও শাকসবজি সরবরাহ করে ভারত। ইসলামিক একাধিক দেশে ভারতের বাস mati চাল অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়া দুধ ও বাজরা উৎপাদনে ভারত বিশ্বে প্রথম এবং মধু, ডিম, মাছ ও ফলমূল উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তবে এহেন বিশ্বসেরা উৎপাদন সত্ত্বেও প্রতিদিনের খাবার অপচয়ের ফলে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ রাতে খালি পেটে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন।

খাবার নষ্ট হওয়া মানে কেবল অন্নের অপচয় নয়; এর সাথে অপচয় হয় জল, বিদ্যুৎ এবং কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম। ভারত সরকার ‘জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন ২০১৩’, ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’-র মাধ্যমে ৮০ কোটিরও বেশি মানুষকে নিখরচায় খাদ্য সরবরাহ করছে যাতে কেউ না খেয়ে ঘুমাতে না যায়। তা সত্ত্বেও সচেতনতার অভাবে খাদ্য অপচয় থামছে না। বিশ্ব খাদ্য দিবসের মূল বার্তাই হলো সচেতন হওয়া, অপচয় বন্ধ করা এবং ক্ষুধার বিরুদ্ধে বিশ্বজোড়া লড়াই জোরদার করা।