পরিবর্তনের রাজ্যেও সেই পুরনো রীত! কলেজ পরিচালনা সমিতির শীর্ষপদে বিজেপি সাংসদ-বিধায়করা

রাজ্যে পালাবদলের পরও শিক্ষা ব্যবস্থায় দলীয় রাজনীতির পুরনো ছবি কি বদলাল? রাজ্য সরকারের উচ্চ শিক্ষা দফতরের প্রকাশিত ২৪৭টি কলেজের সাম্প্রতিক একটি নতুন তালিকা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। শিক্ষামহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার রাজনৈতিক আধিপত্যের সেই চেনা ছবি কি এবার বিজেপি জমানার রাজ্যগুলিতেও একইভাবে বহাল রইল? কলকাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ কলেজগুলির পরিচালন সমিতির মাথায় বসানো হয়েছে শাসক দলের সাংসদ, বিধায়ক এবং হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতাদের।

উচ্চ শিক্ষা দফতরের প্রকাশিত ওই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষা জগতের সচেতন নাগরিক ও শিক্ষাবিদরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। অতীতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি শিক্ষালয়ে দলীয় প্রভাব ও রাজনীতিকরণের তীব্র সমালোচনা করত। কিন্তু বর্তমান প্রকাশিত তালিকা থেকে স্পষ্ট যে, কলেজগুলির প্রশাসনিক এবং পরিচালনা পর্ষদের শীর্ষ পদগুলিতেও প্রশাসনিক আমলা বা শিক্ষাবিদদের পরিবর্তে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কলেজগুলির স্বায়ত্তশাসন এবং শিক্ষাঙ্গনের নিরপেক্ষ পরিবেশ কতখানি অক্ষুণ্ণ থাকবে, তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু বাস্তবে তার কতটা প্রতিফলন ঘটছে, তা এই নতুন তালিকা থেকেই স্পষ্ট। কলকাতা এবং বিভিন্ন মফস্বল বা জেলা স্তরের কলেজগুলির পরিচালন সমিতির সভাপতির আসনে শাসক শিবিরের বিধায়ক ও সাংসদদের নাম দেখে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে রাজনীতির এই সেতুবন্ধন সহজে ভাঙার নয়। বিরোধীরা এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে সরকারের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ ও দলতন্ত্র কায়েমের অভিযোগ তুললেও, শাসক শিবিরের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সব মিলিয়ে, কলেজ কমিটির মাথায় রাজনৈতিক নেতাদের এই আধিপত্য আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের ঝড় তুলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।