এক দিনে ২০ লক্ষ ছাড়াল রেলের টিকিট বুকিং! আইআরসিটিসি-র (IRCTC) নজিরবিহীন রেকর্ড ভাঙল সমস্ত আগের রেকর্ড

ভারতীয় রেলের অনলাইন টিকিট বুকিং ব্যবস্থা আইআরসিটিসি (IRCTC) এক দিনে ২০ লক্ষেরও বেশি টিকিট বুক করে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আগামী উৎসবের মরশুমের কথা মাথায় রেখে অ্যাডভান্স রিজার্ভেশন পিরিয়ড (ARP)-এর জেরে টিকিটের চাহিদা এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে, যা এই নতুন রেকর্ড গড়তে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।

এক নজরে নতুন রেকর্ড ও পরিসংখ্যাণ: আইআরসিটিসি-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে একদিনে মোট ২০,০৬,৩৫৩টি টিকিট বুক করা হয়েছে। এর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ৮ সেপ্টেম্বরও প্রায় ১৯.৫০ লক্ষ টিকিট বুকিং হয়েছিল। এর আগে সর্বোচ্চ টিকিট বুকিংয়ের রেকর্ডটি ছিল প্রায় ১৮.৪০ লক্ষের কাছাকাছি। ফলে সেই পুরনো রেকর্ডকে ভেঙে প্রথমবারের জন্য একক দিনে ২০ লক্ষের গণ্ডি পার করে নতুন ইতিহাস তৈরি করল ভারতীয় রেল। বর্তমানে মোট সংরক্ষিত টিকিটের প্রায় ৮৯ শতাংশই অনলাইন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বুক করা হচ্ছে, যেখানে অফলাইন বা কাউন্টার বুকিং মাত্র ১১ শতাংশে নেমে এসেছে।

কীভাবে সম্ভব হলো এই অভাবনীয় সাফল্য? রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, টিকিট বুকিং ব্যবস্থাকে আরও বেশি শক্তিশালী ও ঝকঝকে করতে পুরনো সার্ভার বদলে নতুন সার্ভার বসানো হয়েছে। ‘এনজিইটি রিফ্রেশ’ (NGet Refresh)-এর অধীনে করা এই পরিবর্তনের ফলে সিস্টেমের সামগ্রিক ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। পাশাপাশি, গত ১৫ জুলাই থেকে চালু হওয়া নতুন বিটা ইন্টারফেসে এখন স্লিপার, এসি থ্রি টিয়ার এবং এসি টু টিয়ারের মতো সমস্ত কোচের সিটের লভ্যতা বা অ্যাভেইলাবিলিটি এক স্ক্রিনেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে যাত্রীদের টিকিট কাটার প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ ও দ্রুত হয়েছে।

বট (BOT) ট্রাফিক ও জালিয়াতি রোধে কড়া পদক্ষেপ: অনলাইন বুকিংয়ে কালোবাজারি রুখতে অ্যান্টি-বট এবং সিডিএন (CDN) প্রযুক্তির সফল ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে বোট ট্রাফিক প্রায় ৫৫ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছে। এ ছাড়াও, অধিকृत এজেন্টদের ক্ষেত্রে সকাল ৮টা থেকে ৮:১০ মিনিট পর্যন্ত এআরপি (ARP) টিকিট বুকিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ভুয়া আইডি বা জালিয়াতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩.০৪ কোটি ইউজার আইডি ব্লক করা হয়েছে এবং ৬.৩ কোটি আইডি রি-ভ্যালিডেশনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই সমস্ত প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির ফলেই বর্তমানে আইআরসিটিসি-র সার্ভার গতি এবং পরিষেবা আরও উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।