নিট কাণ্ডের পরই নজিরবিহীন কড়াকড়ি! এবার থেকে এনটিএ দফতরে পাহারা দেবে সিআইএসএফ!

ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি এন্ট্রান্স টেস্ট বা নিট (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক ত্রুটিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর অবশেষে নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সর্বোচ্চ গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। নতুন এনটিএ অফিসটি পুরোপুরি চালু হওয়ার সাথে সাথেই সেখানে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স বা সিআইএসএফ (CISF)-এর জওয়ানদের মোতায়েন করা হবে।

নতুন ঠিকানায় কড়া নজরদারি

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিন্টো রোডের ভারত সরকারের প্রেস ভবনে প্রায় ৫৫,০০০ বর্গফুটেরও বেশি জায়গা জুড়ে এনটিএ-র একটি নতুন নিজস্ব অফিস কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে। এর পঞ্চম তলা সম্পূর্ণ এবং চতুর্থ ও ষষ্ঠ তলার কিছু অংশ এনটিএ-র ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। গত এক মাস ধরে সংস্থার সমস্ত গোপন ও সংবেদনশীল কাজ এই নতুন ভবনে স্থানান্তরের কাজ চলছে।

পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই কার্যালয়ের নজরদারি পরিকল্পনা নিয়ে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘‘ভবনটির অভ্যন্তরে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয় এলাকাগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ত্রুটিহীন পরিবেশ বজায় রাখতে যাতায়াত এবং প্রতিটি কার্যকলাপ অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই সুরক্ষিত কমপ্লেক্সের জন্য সিআইএসএফ-এর নিরাপত্তা অনুমোদন করেছে।’’

এই কঠোর পদক্ষেপের নেপথ্যে কী কারণ?

চলতি বছরের শুরুতে নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। প্রধানের পদত্যাগের ঠিক একদিন পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পরীক্ষার মানোন্নয়ন ও ত্রুটি সংশোধনের সুপারিশ করতে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চ-স্তরের টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা করেছিলেন।

সিবিআই-এর চার্জশিটে প্রকাশ পায় যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ছিল তিন জন বিষয় বিশেষজ্ঞ। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই বিশেষজ্ঞরা যখন এনটিএ-র গোপনীয় বিভাগে প্রবেশ করেছিলেন, তখন তাঁদের কোনো ধরনের কড়া যাচাই-বাছাই বা চেকিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়নি। আর সেই ফাঁকফোকর গলিয়েই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে ছোট ছোট চিরকুটে প্রশ্ন নকল করে পাচার করার সুযোগ পেয়েছিল তারা। উল্লেখ্য, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা পরিচালনার উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালে গঠিত এনটিএ এতদিন ওখলার কার্যালয় থেকে তাদের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে অতীতের সেই সমস্ত বড় ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার সুরক্ষাবলয় আরও পোক্ত করতে নামল প্রশাসন।