নিউটাউনে সিটি সেন্টার টু-এর পিছনে বিধ্বংসী আগুন! পরপর সিলিন্ডার ফেটে ছাই ২০-২৫টি ঘর, আতঙ্কে পালালেন বাসিন্দারা

উৎসবের আবহের মধ্যেই ফের এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল শহরতলির জনবহুল এলাকা। নিউটাউনে সিটি সেন্টার টু-এর পিছনের একটি ঝুপড়ি এলাকায় বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি ঘর। পাশাপাশি একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে তড়িঘড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। আগুন যাতে আশেপাশের বহুতল বা জনবসতিতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে হাত লাগান। তবে ঠিক কী কারণে এই আগুন লেগেছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেনি দমকল বিভাগ। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পরেই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঝুপড়িগুলির ঠিক পাশেই একাধিক বহুতল থাকায় আগুন লাগার পর থেকেই তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের আবাসিকদের মধ্যে। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, আগুন লাগার খবর পেয়েই দ্রুত তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পরে স্থানীয় বিধায়কও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসেন। ওই ঝুপড়িগুলিতে মূলত প্লাস্টিকের কাজ হতো বলে জানা গিয়েছে। আগুন লাগার পর একটি গ্যাস সিলিন্ডার কোনোমতে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও বাকি সিলিন্ডারগুলি ফেটে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
ঘটনাচক্রে, ঠিক এক মাস আগেই এই এলাকায় বেআইনি ঝুপড়ি এবং বিপজ্জনক কাজকর্ম নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা বা আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। এক প্রত্যক্ষদর্শী মহিলার কথায়, মাত্র এক মাস আগেই তিনি এই এলাকার বাসিন্দাদের বিপজ্জনক পরিস্থিতির কথা বলে সচেতন করেছিলেন যে এখানে এভাবে বস্তি বা ঝুপড়ি রাখা নিরাপদ নয়। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের তৎপরতা এবং সময়মতো প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।