নারী শিক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ! স্কুলছাত্রীদের জন্য মাসিক ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা সরকারের

শিক্ষা ও প্রগতিশীল চিন্তাধারায় দেশের মধ্যে সব সময়ই প্রথম সারিতে থাকে কেরল। সেই ধারায় নতুন সংযোজন হিসেবে রাজ্য সরকার স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের জন্য এক যুগান্তকারী ও সংবেদনশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঋতুস্রাবকালীন শারীরিক ও মানসিক ধকলের কথা মাথায় রেখে কেরল সরকার স্কুলছাত্রীদের জন্য মাসে সর্বোচ্চ তিন দিন পর্যন্ত ‘মেনস্ট্রুয়াল লিভ’ বা ঋতুস্রাবকালীন ছুটি দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে।
এই ছুটির কারণে ছাত্রীদের পড়াশোনায় যাতে কোনো খামতি না থাকে, তার জন্য সপ্তাহান্তে বিশেষ ‘ক্যাচ-আপ’ বা ক্ষতিপূরণমূলক ক্লাসেরও ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। কেরলের নতুন ইউডিএফ সরকারের নীতি নির্ধারণী ভাষণে এই ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীসানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নারী ও শিশুবান্ধব কর্মপরিকল্পনা পেশ করেন রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর।
রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে ‘প্রজেক্ট মেনস্ট্রুয়াল ডিগনিটি’ বা ‘ঋতুস্রাব মর্যাদা প্রকল্প’-এর কথা উল্লেখ করেন। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পাবলিক প্লেসগুলোকে মেয়েদের জন্য সম্পূর্ণ স্বস্তিদায়ক করে তোলা। এর আওতায় রাজ্যের বড় শহরগুলোতে উন্নত ও পরিচ্ছন্ন পাবলিক রেস্টরুম তৈরির পাশাপাশি স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সুলভ করতে প্রশাসন বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে।
শুধু স্কুলছাত্রী নয়, কর্মরতা মহিলাদের জন্যেও কেরল সরকার কঠোর আইনি সুরক্ষাবলয় তৈরি করতে চলেছে। ১৯৬১ সালের মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইন মেনে রাজ্যে নতুন ‘চাইল্ড কেয়ার রুলস’ কার্যকর করা হচ্ছে। এর ফলে, ৫০ জনের বেশি কর্মীযুক্ত সমস্ত সরকারি অফিস, শিল্প প্রতিষ্ঠান, আইটি পার্ক এবং বাণিজ্যিক সংস্থায় উচ্চমানের ডে-কেয়ার সেন্টার বা ক্রেশ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে চাকুরিজীবী মায়েরা সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে কাজ করতে পারবেন।
লিঙ্গবৈষম্য দূর করতেও কোমর বেঁধেছে প্রশাসন। বিশেষ করে বেসরকারি ও অসংগঠিত ক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলাদের বেতনের বৈষম্য দূর করতে ‘সমকাজে সমবেতন’ নীতি কঠোরভাবে বলবৎ করা হবে। অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত নারীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার পূর্ণাঙ্গ ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা প্রদান করছে।
শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে কেরল এক নজিরবিহীন সামাজিক অভিযানের ডাক দিয়েছে। ‘দুস্থ ও অনাথ-মুক্ত কেরল’ গড়ার লক্ষ্যে জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টকে হাতিয়ার করে ব্যাপক আইনি দত্তক ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে। প্রশিক্ষিত ও পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ‘ফস্টার ফ্যামিলি’র মাধ্যমে অনাথ শিশুদের দায়িত্ব নেওয়ার এই ব্যবস্থা কেরলকে ভারতের প্রথম ‘অনাথ-মুক্ত রাজ্য’ হিসেবে গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করবে। শিক্ষা ও নারী কল্যাণে কেরল সরকারের এই দূরদর্শী পদক্ষেপকে ইতিমধ্যেই শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা স্বাগত জানিয়েছেন।