নন্দনে রাতারাতি গায়েব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম! বদলাচ্ছে ফলক, কী ঘটে গেল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে?

বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র নন্দনে দেখা গেল এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিবর্তনের ছাপ। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার নন্দন চত্বর থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলক। শুধু ফলক সরানোই নয়, সেটির ওপর করা হয়েছে রং। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে একেবারেই অক্ষত রয়েছে প্রাক্তন সিপিআইএম মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত ফলকটি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে বইছে প্রবল তর্ক-বিতর্কের ঝড়।
১৯৮০ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর হাত ধরে নন্দনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের উপস্থিতিতে এর শুভ উদ্বোধন ঘটেছিল। এরপর ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তন ঘটলে নন্দন চত্বরে যুক্ত করা হয় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলক। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর রাজ্যে তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটে বিজেপি ক্ষমতায় আসে। আর এই রাজনৈতিক পরিবর্তন আসতেই নন্দন চত্বরে বদলে গেল দৃশ্যপট।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো প্রকাশের দিনেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রশ্ন উঠছে, এ কি কেবলই নন্দন চত্বরের সংস্কারের অংশ, নাকি নতুন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসার পর আগের প্রতীক্ষ মুছে ফেলার একটি বার্তা? নন্দনের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে কেন জ্যোতি বসুর নাম অক্ষত রেখে কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফলক ঢেকে দেওয়া হলো, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।