দৈনন্দিন জীবনের এই ভুলেই শেষ হচ্ছে হার্ট? সুস্থ থাকতে জানুন চিকিৎসকদের গোপন স্বাস্থ্য টিপস!

বর্তমান যুগে অনিয়মিত জীবনযাপন, পুষ্টিহীন খাদ্যাভ্যাস এবং অনবরত মানসিক চাপের কারণে কম বয়সেই বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে হৃদরোগীর সংখ্যা। তবে চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিনের জীবনের সামান্য কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনলেই হার্টকে রাখা সম্ভব একদম চাঙ্গা ও রোগমুক্ত। আসুন জেনে নেওয়া যাক হার্ট সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকারী ৭টি সহজ উপায়:

১. ধূমপান অবিলম্বে ত্যাগ করুন

হৃদরোগের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো ধূমপান। প্রতিবার ধূমপানের সময় তা আমাদের রক্তনালীর মারাত্মক ক্ষতি করে। কিন্তু আশার কথা হলো, ধূমপান ছাড়ার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই শরীরে প্রভাব পড়তে শুরু করে এবং স্বাভাবিক হতে শুরু করে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ।

২. সঠিক ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস

দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে ফলমূল, টাটকা শাকসবজি, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখুন। প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবার, অতিরিক্ত মিষ্টি এবং ট্রান্স ফ্যাট জাতীয় খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। কারণ এগুলো রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

৩. নিয়মিত শরীরচর্চা ও হাঁটার অভ্যাস

হৃদযন্ত্রের পেশি মজবুত করতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস রাখলে তা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৪. রক্তচাপ ও লবণের ওপর নিয়ন্ত্রণ

উচ্চ রক্তচাপ হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। তাই খাবারে কাঁচা লবণের পরিমাণ কমান এবং নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করান। আগে থেকে উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়লে সহজেই বড় বিপদ এড়ানো যায়।

৫. কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা

ধূমপান ও অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেলে শরীরে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কমে গিয়ে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) ও ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করান। ওটস, ফ্ল্যাক্স সিড, বিভিন্ন বাদাম ও ওমেগা-৩ যুক্ত খাবার খেলে প্রাকৃতিকভাবেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৬. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ

দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ বা স্ট্রেস হার্টের বড় ক্ষতি করে। মানসিক চাপ কমাতে প্রতিদিন নিয়ম করে প্রাণায়াম, যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন করুন। এ ছাড়া নিজের পছন্দের বই পড়া, গান শোনা বা বাগান করার মতো শখগুলো মন শান্ত রাখতে সাহায্য করে।

৭. মদ্যপানে নিয়ন্ত্রণ

অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং হার্টের পেশি দুর্বল করে দেয়। বিশেষ করে যারা ধূমপানের পাশাপাশি মদ্যপান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

Pratik Saha
  • Pratik Saha