দুর্গাপুরের আলো ঝলমলে পুজো ছেড়ে মানুষ ছুটছেন এই মন্দিরে, কারণ জানলে অবাক হবেন!

পশ্চিমবঙ্গের ‘স্মার্ট সিটি’ দুর্গাপুর তার আধুনিক আলোকসজ্জা এবং থিমের পুজোর জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এই ঝলমলে শহরের খুব কাছেই, গভীর জঙ্গলের ভেতরে লুকিয়ে আছে প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো এক দুর্গাপুজোর ইতিহাস। এই পুজো শহরের জাঁকজমককে টেক্কা দিয়ে আজও তার প্রাচীন ঐতিহ্য এবং রহস্য নিয়ে ভক্তদের আকর্ষণ করে।
দুর্গাপুরের কাঁকসার গড় জঙ্গলে অবস্থিত এই মন্দিরে দেবী দুর্গা পূজিত হন মা শ্যামরূপা নামে। পুজোর চার দিন এখানে এক লক্ষেরও বেশি মানুষের সমাগম হয়। তাদের উদ্দেশ্য শুধু প্রতিমা দর্শন নয়, বরং এই প্রাচীন পুজোর গা ছমছমে পরিবেশে ইতিহাসের ছোঁয়া উপভোগ করা।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, রাজা লক্ষণ সেন গৌড় সাম্রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে এই জঙ্গলে আত্মগোপন করেন। তিনিই এখানে প্রথম দুর্গাপূজা শুরু করেন এবং মায়ের জন্য একটি মন্দির স্থাপন করেন। রাজা লক্ষণ সেনের সভাকবি জয়দেব দেবীকে এখানে শ্যাম রূপে দর্শন করেন, আর তখন থেকেই দেবীর নাম হয় শ্যামরূপা।
রাজা লক্ষণ সেন গৌড়ে ফিরে যাওয়ার পর মন্দিরের দায়িত্ব দেন তার সেনাপতি ঢেকুরের সামন্ত রাজা ইছাই ঘোষকে। কথিত আছে, ইছাই ঘোষ এই মন্দিরে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন এবং তিনিই প্রথম ষোড়শ উপাচারে দুর্গাপূজা করেন। অনেকেই মনে করেন, এভাবেই বাংলায় প্রথম দুর্গাপূজার সূচনা হয়।
এই পুজোর সবচেয়ে বড় রহস্য লুকিয়ে আছে অষ্টমীর সন্ধিপূজার সময়। প্রতি বছর অষ্টমীর সন্ধিক্ষণে যখন সন্ধিপূজা হয়, তখন পুরো এলাকা এক অলৌকিক গর্জনে কেঁপে ওঠে। স্থানীয়রা জানান, ওই সময় দূর থেকে কামান দাগার মতো শব্দ শোনা যায়। কোথা থেকে এই শব্দ আসে, তা আজও কেউ জানতে পারেনি। অনেকেই এই রহস্যের কিনারা করতে প্রতি বছর সন্ধিপূজার সময় এখানে ভিড় করেন, কিন্তু উত্তর আজও অজানা।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার প্রত্নতত্ত্ববিদ প্রণব ভট্টাচার্যও জানিয়েছেন, এখানে সেন বংশ এবং ইছাই ঘোষের অনেক নিদর্শন পাওয়া গেছে, যা এই মন্দিরের প্রাচীনত্ব প্রমাণ করে। তাই, যদি এই বছর দুর্গাপূজায় এক ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা চান, তাহলে এই প্রাচীন মন্দিরে গিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারেন।