দুর্গাপুজো নয়, মালদহে পুজিত হন স্বয়ং যমরাজ! দেড়শো বছরের পুরনো এই পুজোর ঐতিহ্য ঘিরে আগ্রহ তুঙ্গে

সাধারণত বাঙালির ঘরে ঘরে দুর্গাপূজা, কালীপূজা বা ছট পূজার আনন্দ দেখা যায়। কিন্তু মালদহ শহরে রয়েছে এক অভিনব ও অনন্য উৎসবের ঐতিহ্য। এখানে দেবী-দেবতা নন, প্রাণ হরণকারী যমরাজ এবং তাঁর সচিব চিত্রগুপ্ত পুজিত হন। প্রায় ১৫০ বছর আগে মালদহ শহরের এনএস রোড এলাকায় এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। বর্তমানে ‘আদিকংশবণিক কালীবাড়ি ও বীণাপাণি সংঘের’ যৌথ উদ্যোগে কার্তিক পুজোর পরের দিন এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়।
নিষ্ঠা সহকারে যমরাজের আরাধনা:
পুজো উদ্যোক্তা তাপস রায় জানান, “প্রতিবছরই কার্তিক পুজোর পরের দিন যমরাজের পুজো করা হয়। পাশেই থাকেন সচিব চিত্রগুপ্ত। দেবী দেবতার পুজোর মতোই নিষ্ঠা সহকারে রীতি মেনে পুজো হয় যমরাজের।”
এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ হলো, বাইরে থেকে কোনও মৃৎশিল্পী বা ডেকোরেটর না এনে ক্লাব সদস্যরা নিজেরাই প্রতিমা তৈরি করেন এবং মণ্ডপসজ্জার কাজ করেন। এই বিশেষ আয়োজন না থাকা সত্ত্বেও এলাকাবাসীরা সকলে মিলে এই পুজোতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পুজোর প্রায় সাত দিন পর মহানন্দা ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
আদিকংশবণিক কালীবাড়ি ও বীণাপাণি সংঘের সদস্যরা জানান, মাঝে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও বর্তমানে এলাকার যুবকরা ক্লাবের উদ্যোগে প্রতিবছর এই পুজো করে আসছেন। মণ্ডপসজ্জা বা প্রতিমায় বিশেষ জৌলুস না থাকলেও, এই অভিনব অনন্য পুজো দেখতে জেলাবাসীদের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে।