দুর্গাপুজোয় বাঙালির ষোলোকলা পূর্ণ! পদ্মার ইলিশের জোয়ার, ১০ দিনে কত মেট্রিক টন রূপোলি শস্য এলো বাংলায়?

শারদ উৎসব মানেই বাঙালির এক অদ্ভুত আবেগ, আর এই আবেগের সঙ্গে পদ্মার ইলিশ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। পুজোর ক’টা দিন বাঙালির পাতে মাছে-ভাতে উৎসব চলে। আর সেই ইলিশ যদি আসে বাংলাদেশের বুক থেকে, তাহলে তা হয়ে ওঠে যেন একপ্রকার আবেগের উদযাপন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি— পুজোর আগে এবং পুজোর মধ্যেই শতাধিক মেট্রিক টন ইলিশ এসে পৌঁছেছে পশ্চিমবঙ্গে।

এই ইলিশের আগমনে বাঙালির ষোলোকলা যেন পূর্ণ।

বেনাপোল দিয়ে ঢুকলো ১০৩ মেট্রিক টন ইলিশ
বাংলাদেশ সরকার গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়। এই বছর মোট ৩ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির কোটা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ।

আমদানির পরিমাণ: সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর—এই ১০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে ৮১.৪৩৮ মেট্রিক টন ইলিশ পশ্চিমবঙ্গে এসেছে। পুজোর সময় পর্যন্ত মোট ১০৩ মেট্রিক টন ইলিশ এদেশে ঢুকেছে।

মান ও ওজন: রপ্তানি করা ইলিশের অধিকাংশই ৮০০ গ্রাম থেকে ১.২ কেজি ওজনের এবং মানেও বেশ ভালো।

ইলিশ ছাড়া উৎসব অসম্পূর্ণ
পুজোর দিনগুলিতে অনেকেই খাসি বা মাটনের দিকে ঝোঁকেন ঠিকই, কিন্তু একটা বড় অংশের বাঙালির জন্য নবমী বা দশমীর পাতে যদি পদ্মার ইলিশ না থাকে, তাহলে উৎসবটা কিছুটা অসম্পূর্ণ মনে হয়। পদ্মার রূপোলি শস্য যেন দেবী দুর্গারই আশীর্বাদ!

বর্তমানে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, বর্ধমান সহ বিভিন্ন জেলার বাজারে—বিশেষ করে গড়িয়াহাট, মানিকতলা, নিউ মার্কেট, কোলাঘাট, বারাসাতের মতো বাজারগুলিতে—পদ্মার ইলিশের যথেষ্ট চাহিদা তৈরি হয়েছে এবং চলছে ইলিশের জোয়ার।