দীর্ঘ ৩০ বছরের অপেক্ষার অবসান! দিল্লির নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাডারকে ঐতিহাসিক সবুজ সংকেত কেন্দ্রের!

দীর্ঘ তিন দশকের অপেক্ষার পর অবশেষে রাজধানী দিল্লির পরিকাঠামো উন্নয়নে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্র সরকার। দিল্লির লোক নির্মাণ বিভাগ (PWD)-এর জন্য একটি পৃথক ও স্বাধীন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাডার গঠনের প্রস্তাবে সরকারি অনুমোদন মিলেছে। এর ফলে এবার থেকে দিল্লির নিজস্ব পরিকাঠামো এবং নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পুরোপুরি স্থানীয় প্রশাসনের নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থার হাতে ন্যস্ত হতে চলেছে।

কী এই নতুন পরিবর্তন?

এত দিন পর্যন্ত দিল্লির পিডব্লিউডি বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং পরিষেবাগুলি মূলত কেন্দ্রীয় লোক নির্মাণ বিভাগ (CPWD) ক্যাডারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এই ব্যবস্থার অধীনে মোট ৩৬টি শ্রেণীতে ৩,২১৪টি অনুমোদিত পদ ছিল, যেগুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমেই সম্পন্ন হতো। কিন্তু দিল্লির নিজস্ব ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রীয় নির্ভরতা বহু ক্ষেত্রেই বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াত। প্রায় ৩০ বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ঝুলে থাকার পর মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা এই বিষয়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছিল, যাকে এবার চূড়ান্ত অনুমোদন দিল কেন্দ্র।

কেন এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে দিল্লির উন্নয়নে একটি সুদূরপ্রসারী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আগামী দিনে নতুন সচিবালয় নির্মাণ, সমস্ত ১১টি জেলায় মিনি সচিবালয় স্থাপন, নতুন রাস্তাঘাট, সেতু, খেলার মাঠ এবং অন্যান্য জনমুখী পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ আরও দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করা যাবে। আলাদা ক্যাডার গঠিত হওয়ায় দিল্লির নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের টিম তৈরি করা সম্ভব হবে, যা কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

জাবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ

শুধু পরিকাঠামো নির্মাণই নয়, এর ফলে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করাও অনেক বেশি সহজ হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। অতীতে অনেক সময় দেখা যেত যে কোনো নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বদলির কারণে সুনির্দিষ্টভাবে দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ত। নতুন এই স্বাধীন ক্যাডারের মাধ্যমে দিল্লির প্রকৌশল কর্মকর্তাদের কাজের ওপর নিবিড় নজরদারি চালানো যাবে এবং উন্নয়নমূলক কাজগুলিতে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।