দিল্লি: শ্বাসরুদ্ধকর সকালে ‘বিপজ্জনক’ বাতাস! কেন শহরজুড়ে বিক্ষোভ?

ফের বায়ুদূষণের ভয়াবহ গ্রাসে রাজধানী দিল্লি। সোমবার সকালে শহর ও সংলগ্ন এনসিআর অঞ্চল ঘন ধোঁয়ার চাদরে ঢাকা পড়ে। সকাল ৭টায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭২, যা ‘গুরুতর’ (Severe) স্তরের দূষণ নির্দেশ করে।
দিল্লির অধিকাংশ এলাকায় AQI ৩০০ থেকে ৪০০-এর মধ্যে রয়েছে, যা ‘খুব খারাপ’ (Very Poor) থেকে ‘গুরুতর’ অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পার্শ্ববর্তী শহরগুলির অবস্থাও একই—ফরিদাবাদে ৩১২, গাজিয়াবাদে ৩১৮, গ্রেটার নয়ডাতে ৩২৫, গুরুগ্রামে ৩২৮ এবং নয়ডাতে ৩১০। এই পরিসংখ্যানগুলি স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে, গোটা এনসিআর অঞ্চলই বর্তমানে শ্বাসকষ্টের সম্মুখীন।
এই পরিস্থিতিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে রবিবার ইন্ডিয়া গেটে বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) বেশ কয়েকজন ছাত্রকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। ‘দিল্লির নাগরিক’ ব্যানারে এই বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অংশ নেন এবং অবনতিশীল বায়ুমান ও সরকারের নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই বিষাক্ত বাতাসে দীর্ঘক্ষণ থাকলে শ্বাসকষ্ট, চোখের জ্বালা এবং দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুস ও হৃদরোগের সমস্যা বাড়তে পারে। বহু বাসিন্দা ইতিমধ্যেই শ্বাসকষ্ট এবং চোখ ও গলায় জ্বালাপোড়ার অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে, দিল্লি-এনসিআর-এ শীতের আগমনী বার্তা। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৩ ডিগ্রি কমে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অবশ্য ২৭-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) পরিষ্কার আকাশ এবং ১৫-২০ কিমি/ঘণ্টা বেগে ঠান্ডা বাতাস প্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা সকাল-সন্ধ্যায় ঠান্ডা অনুভূত করাবে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বাতাসের কম গতি, তাপমাত্রার পতন এবং আর্দ্রতা বৃদ্ধি—এই সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাবে দূষণকারী পদার্থগুলি ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি আটকে যাচ্ছে। পাশাপাশি, প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে ফসলের অবশিষ্ট খড় পোড়ানোর ধোঁয়া পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। কর্তৃপক্ষ বারবার যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা এবং স্মগ গান ব্যবহার করেও দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে।