দিনে ৬০ জন খুন! বন্দুকবাজের নৃশংস তাণ্ডবে কাঁপছে দেশ, ১ সপ্তাহে গণহত্যার শিকার কত?

দক্ষিণ আফ্রিকার দুই প্রধান শহর জোহানেসবার্গ ও কেপ টাউনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে গেল ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। একে-৪৭ রাইফেল ও পিস্তল উঁচিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে এই দুই পৃথক হামলায় অন্তত ২৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বন্দুকবাজেরা। পুলিশ এখনও এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। উল্লেখ্য, এর মাত্র পাঁচ দিন আগেই ডারবানের একটি টাউনশিপে বন্দুকবাজদের হামলায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটে শনিবার মধ্যরাতের কিছু আগে, জোহানেসবার্গের ওয়েডেলা টাউনশিপের একটি বারে। আটজন সশস্ত্র সন্দেহভাজন ব্যক্তি অতর্কিতে পানশালায় ঢুকে প্রথমে বাইরে বসা লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং পরে ভেতরে তাণ্ডব চালায়। এই হামলায় ১৩ জন পুরুষ ও ৪ জন নারীসহ মোট ১৭ জন নিহত হন এবং ১৫ জন আহত হন। আততায়ীরা মৃতদের দেহ তল্লাশি করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে দুটি গাড়িতে চম্পট দেয়।
এর মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে, রবিবার রাতে কেপ টাউনের লোয়ান্ডেল টাউনশিপের একটি স্টোরে দ্বিতীয় হামলাটি চালায় বন্দুকবাজেরা। সেখানে ১০ জন নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনাই একাধিক সশস্ত্র অপরাধীর সুপরিকল্পিত কাজের ফল। গত মঙ্গলবার ডারবানের কোয়ামাখুটা টাউনশিপে একটি হাউস পার্টিতে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাসহ ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর, এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয়বার বড় ধরনের গণহত্যার ঘটনা ঘটল দক্ষিণ আফ্রিকায়।
দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ আফ্রিকায় খুন, রাহাজানি ও ডাকাতি নিত্যদিনের ঘটনা। তবে এত কম সময়ের ব্যবধানে বারবার গণহত্যাকারীদের এমন উত্থানে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার ভেঙে পড়া অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এই ধরনের হিংসার অন্যতম প্রধান অনুঘটক। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের অবাধ কেনাবেচা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই দেশের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। জোহানেসবার্গ এবং কেপ টাউনের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলিও এর আওতাভুক্ত। তবে সরকারের এই পদক্ষেপেও অপরাধের গ্রাফ কমেনি। পুলিশের নিজস্ব পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসেই দেশটিতে ৫ হাজার ৪২৭টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার অর্থ প্রতিদিন গড়ে ৬০ জন মানুষ খুন হচ্ছেন। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে।