দিঘার বিচে ব্যবসার দিন শেষ? কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের, ক্ষোভে ফুঁসছেন হকাররা

বাঙালির অন্যতম সেরা এবং জনপ্রিয় উইকেন্ড ডেস্টিনেশন দিঘাকে নতুন রূপ দিতে এবং আরও বেশি পরিবেশবান্ধব করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। এখন থেকে ওল্ড কিংবা নিউ দিঘার মূল সমুদ্র সৈকতে আর কোনো ব্যবসা বা দোকানদারি করা যাবে না। বিচকে সম্পূর্ণ ‘হকারমুক্ত’ করার নির্দেশ জারি করেছে প্রশাসন এবং মঙ্গলবার থেকেই এই কড়া সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে এক বাক্যে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ পর্যটক থেকে শুরু করে ‘দিঘা শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর সদস্যরা। তবে বিকল্প রুজিরুটির ব্যবস্থা না করে আচমকা এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে স্থানীয় হকারদের মধ্যে।

কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত?

প্রশাসন সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে দিঘায় পর্যটকদের ভিড় রেকর্ড হারে বেড়েছে। তবে একই সঙ্গে দিঘার সৈকত নিয়ে উঠছিল একাধিক গুরুতর অভিযোগ:

  • দূষণ ও সৌন্দর্যায়ন নষ্ট: সমুদ্রে নামার জায়গায় বা বিচে বসানো দোকানগুলি থেকে খাবার বা জিনিসপত্র কিনে পর্যটকদের একাংশ প্লাস্টিক, ঠোঙা ও প্যাকেট যত্রতত্র ফেলছিলেন। ফলে বিচের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ চরমে পৌঁছাচ্ছিল।

  • চলাচলে বাধা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত: সৈকতে হকারদের অনিয়ন্ত্রিত পশরা সাজিয়ে বসার কারণে পর্যটকদের হাঁটাচলা ও স্বাভাবিক চলাফেরা কঠিন হয়ে উঠছিল।

সামনেই রয়েছে শীতের মরশুম—কালীপুজো, বড়দিন এবং ইংরেজি নববর্ষের ছুটিতে দিঘায় উপচে পড়া ভিড় হওয়ার কথা। ঠিক তার আগেই বিচের পরিবেশ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সমুদ্র সৈকত সম্পূর্ণ হকারমুক্ত করার এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলো।

ক্ষোভে ফুঁসছেন হকাররা

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে একদিকে পর্যটকেরা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় হকাররা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে সৈকতে ছোটখাটো জিনিসপত্র বিক্রি করেই তাঁদের সংসার চলে। প্রশাসন বিকল্প কোনো পুনর্বাসন বা নির্দিষ্ট বাজারের ব্যবস্থার কথা না ভেবেই আচমকা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁদের রুজিরুটি নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো।

বর্তমানে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে বিচে হকারদের বসা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন হকারদের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থার কথা ভাববে কি না, সেদিকেই এখন নজর সবার।