‘থ্রেট কালচার এবার চিরতরে শেষ হবে!’ রাজ্যজুড়ে চলা দুষ্কৃতীরাজ দমনে কড়া পদক্ষেপের হুংকার দিয়ে কী বললেন দিলীপ?

কোচবিহার থেকে শুরু করে হুগলি—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক দুষ্কৃতী তাণ্ডব এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে ফের একবার সুর চড়ালেন ভারতীয় জনতা পার্টির সিনিয়র নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে একাধিক এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা, হুমকি সংস্কৃতি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তার তীব্র সমালোচনা করে দিলীপ ঘোষ সরাসরি এনকাউন্টারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, রাজ্যে সাধারণ মানুষ ও সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের ওপর চলা ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকি সংস্কৃতির দিন এবার শেষ হতে চলেছে এবং আইনবিরুদ্ধভাবে যারা বেয়াদপি করবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জেলা থেকে বারবার দুষ্কৃতী তাণ্ডব, বোমাবাজি এবং বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ সামনে আসছে। কোচবিহারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুরু করে হুগলির গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে যেভাবে অপরাধমূলক প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁর মতে, রাজ্যে একশ্রেণির দুষ্কৃতী রাজনৈতিক আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতেই এই ধরনের হিংসাত্মক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে। এই সংস্কৃতি চলতে দেওয়া যায় না বলেই তিনি কড়া বার্তা দিয়েছেন।
দিলীপ ঘোষ এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের নামে যে ধরনের গুন্ডারাজ চলছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। হুমকি সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে প্রশাসনের পাশাপাশি কড়া পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বেয়াদপি বা আইনভঙ্গের চেষ্টা করলে অপরাধীদের উপযুক্ত পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। একদল রাজনৈতিক মহল যেখানে এই ধরনের কঠোর হুঁশিয়ারিকে অপরাধ দমনের একমাত্র পথ বলে সমর্থন করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এর তীব্র সমালোচনা করে একে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার হুমকি বলে অভিহিত করেছে। সবমিলিয়ে, কোচবিহার থেকে হুগলির সাম্প্রতিক দুষ্কৃতী তাণ্ডব এবং দিলীপ ঘোষের এই সরাসরি এনকাউন্টার-হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়ছে।