তীব্র বৃষ্টিতে জমিতে জল জমলেই মোজাইক ভাইরাসের হামলা! বেগুন-ধান বাঁচাতে কৃষি বিজ্ঞানীদের ‘এই’ ম্যাজিক টিপস মানলেই বাজিমাত!

উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ—অসময়ে লাগাতার বৃষ্টিতে নাজেহাল অবস্থা। কোথাও জমিতে হাঁটুসমান জল, আবার কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে সবজি ও বিভিন্ন ফসল। এর জেরে মালদা জেলার বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে জল জমে উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে কৃষকদের। এই পরিস্থিতিতে অতিবৃষ্টির জেরে সম্ভাব্য রোগ ও ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় এগিয়ে এল মালদা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র।
মোজাইক ভাইরাসের মারাত্মক আক্রমণ ও লক্ষণ
টানা বৃষ্টি ও জমিতে জল জমে থাকার কারণে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। সেই সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করেছে রোগ ও ক্ষতিকারক পতঙ্গের আক্রমণ। কৃষি বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতিতে বিশেষ করে বেগুনে মারাত্মক মোজাইক ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে।
আক্রান্ত গাছের পাতায় হালকা ও গাঢ় সবুজ ছোপ, ফোসকার মতো দাগ, পাতা কুঁচকে যাওয়া এবং গাছ ছোট হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। এর ফলে মারাত্মকভাবে কমে যায় ফলন এবং ফল ছোট, বিকৃত বা দাগযুক্ত হয়ে নষ্ট হতে শুরু করে।
বিজ্ঞানীদের দেওয়া ওষুধের স্প্রে গাইডলাইন
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং চাষিদের বিরাট ক্ষতি থেকে বাঁচাতে বিশেষ ওষুধ প্রয়োগের নির্দেশিকা জারি করেছেন মালদা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ডঃ পি. আনবালাগান:
বেগুনের ক্ষেত্রে: প্রথমে ১৬ লিটার জলে সায়ানট্রানিলিপ্রোল ১০.২৬ ওডি ১৫ মিলিলিটার মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এর ঠিক ৭ দিন পর ডায়াফেনথিউরন ৫০ শতাংশ ডব্লিউপি ৭.৫ গ্রাম অথবা থায়ামেথক্সাম ২৫ শতাংশ ডব্লিউজি ৪ গ্রাম এবং তার সঙ্গে নিম তেল ৮০ মিলিলিটার প্রয়োগ করতে হবে।
ধানের ক্ষেত্রে: রোগ দেখা দিলে ট্রাইসাইক্লাজল ২০.৪ শতাংশ ও অ্যাজক্সিস্ট্রোবিন ৬.৮ শতাংশ এসসি নির্ধারিত মাত্রায় স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৫০০ লিটার জলের সঙ্গে ১ লিটার ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই রোগের ধরন ও ফসলের অবস্থা বুঝে ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে।
কৃষকদের প্রতিক্রিয়া ও আবহাওয়া বার্তা
গাজোল, পুরাতন মালদা, বামনগোলা, হবিবপুর, কালিয়াচক, ইংরেজবাজার ও মানিকচক-সহ জেলার ১৫টি ব্লকে ধান, বেগুন, ঢেঁড়স, ঝিঙে, করলা, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলো এবং পেঁয়াজের মতো বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়।
স্থানীয় কৃষক সানাউল শেখ জানান, “চাষাবাদ রক্ষার এই পদ্ধতি সবটা জানা ছিল না। কৃষি বিজ্ঞানীরা যখন পরামর্শ দিয়েছেন, তখন অবশ্যই সেই পদ্ধতি মেনে ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করব।” আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মালদায় ১০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলস্বরূপ, এই বৃষ্টি কৃষিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই গভীর নজর রেখেছেন জেলার কৃষকরা।