ডায়াবিটিস ও প্রেসার থেকে অজান্তেই ধ্বংস হচ্ছে কিডনি! সতর্ক না হলে সামলাবেন কীভাবে?

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের ব্যস্ততা, অফুরন্ত চাপ এবং সময়ের অভাব—এ যেন এখনকার সাধারণ জীবনের অঙ্গ। কিন্তু সামান্য ক্লান্তি লাগলে “ঘুম কম হয়েছে” কিংবা বারবার জলতেষ্টা পেলে “গরমের জন্য হচ্ছে” ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন কি? চিকিৎসকদের মতে, এই ছোট ছোট লক্ষণই হতে পারে শরীরের কোনো বড়সড় জটিলতার পূর্বসংকেত। বিশেষ করে ‘ক্রনিক কিডনি ডিজিস’ বা সিকেডি (CKD)-র ক্ষেত্রে বিপদটা সবচেয়ে বেশি, কারণ এই রোগ শরীরের ভেতর শুরুতেই কোনো তীব্র সতর্কবার্তা দেয় না।

কিডনির সবচেয়ে বড় শত্রু শুধু নুন নয়!

প্রখ্যাত নেফ্রোলজিস্ট ড. পার্থ কর্মকারের মতে, বিশ্বজুড়ে কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপ। দীর্ঘ সময় রক্তে শর্করা বেশি থাকলে কিডনির ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এর ফলে কিডনির রক্ত ছেঁকে বর্জ্য বের করার স্বাভাবিক ক্ষমতা কমতে থাকে। অন্যদিকে, রক্তচাপ বেশি থাকলেও সেই একই রক্তনালিগুলোতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে কিডনিকে অকেজো করে দেয়।

স্থূলতা ও জীবনযাত্রার খারাপ প্রভাব:

সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, অনিয়মিত ঘুম, প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া এবং দিনের পর দিন অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভোগার কারণে স্থূলতা তৈরি হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ওজন থেকেই ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে ডায়াবিটিস ও কিডনির ওপর চাপ দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কম বয়সেও কি ঝুঁকি রয়েছে?

শুধু বয়স্ক বা ডায়াবিটিসের রোগীদেরই যে কিডনির সমস্যা হতে পারে, তা নয়। কম বয়সিদের ক্ষেত্রেও ‘গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস’-এর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার অতিরিক্ত গরমে পর্যাপ্ত জল না খেয়ে দীর্ঘক্ষণ কায়িক পরিশ্রম করা, মাটি বা জলের দূষণ কিংবা ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রভাবেও কিডনি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বায়োপসি মানেই ক্যানসার নয়:

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অনেক সময় রোগের ধরন সঠিকভাবে শনাক্ত করতে কিডনি বায়োপসি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ‘বায়োপসি’ শুনেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই, কারণ এই পরীক্ষা ক্যানসারের জন্য নয়, বরং কিডনির ক্ষয়ক্ষতির সঠিক কারণ জানার জন্যই করানো হয়।

বাঁচবেন কীভাবে?

  • প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন।

  • রক্তে শর্করা এবং প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যথেচ্ছ ব্যথানাশক ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করুন।

  • পর্যাপ্ত জল পান করুন এবং সুষম আহার গ্রহণ করুন।

  • শরীরে দীর্ঘদিনের অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মুখ বা হাত-পা ফোলা কিংবা প্রস্রাবের কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করান।

শরীরে কোনো সমস্যা নেই ভেবে বছর পর বছর পরীক্ষা না করিয়ে বসে থাকার অভ্যাসই বড় বিপদ ডেকে আনে। কিডনি পুরোপুরি বিকল হওয়ার আগেই শরীরের ছোট ছোট সংকেত চেনা এবং জীবনযাত্রায় সচেতনতাই এর সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।