অক্ষরজ্ঞানহীনদের ঘরে আইফোন ও হাই-টেক গ্যাজেট! আসানসোলে ‘মিনি জামতাড়া’র খোঁজ পেয়ে তাজ্জব পুলিশ

কম্পিউটারের সাধারণ জ্ঞানটুকুও যাদের নেই, পড়াশোনাও প্রায় শূন্য—তাদেরই বাড়ির গোপন কুঠুরি থেকে উদ্ধার হচ্ছে সার সার আইফোন, দামি ল্যাপটপ, রাউটার আর থরে থরে সাজানো সিমে ভরা ড্রয়ার! শিল্পাঞ্চল আসানসোলের বুকে গড়ে ওঠা ‘মিনি জামতাড়া’র ডেরায় হানা দিয়ে এই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশ আধিকারিকদের। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক বিশাল বাহিনীর লাগাতার মেগা অভিযানে জালিয়াতি চক্রের মোট ১৪ জন অপরাধীকে শেকল পরালো পুলিশ।

যেভাবে ধরা পড়ল ‘মিনি জামতাড়া’: ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম পোর্টালে জমা পড়া অজস্র প্রতারণার অভিযোগ ধরে তদন্তে নামেন তদন্তকারীরা। ফোনের টাওয়ার লোকেশন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে জালিয়াতির সমস্ত কল আসছে নিয়ামতপুরের হরিজন পাড়া এলাকা থেকে।

এরপর আসানসোল দুর্গাপুর সাইবার ক্রাইম শাখার এডিসি রাহুল পাণ্ডের নেতৃত্বে সেখানে হানা দেয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে রোমাঞ্চকর তথ্য। প্রতিটি বাড়ির বাইরে পুলিশ ও শত্রুর আনাগোনা নজরে রাখতে লাগানো ছিল সিসিটিভি ক্যামেরা। পালানোর জন্য করা হয়েছিল গোপন সুরঙ্গ ও বিশেষ দরজা। তবে পুলিশের তৎপরতায় চোর পালাবার পথ পায়নি। হাতেনাতে পাকড়াও করা হয় ১০ জনকে।

উদ্ধার লাখ লাখ টাকার গ্যাজেট ও নগদ: ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ, মডেম, রাউটার, আইফোন সহ একাধিক দামি মোবাইল, অসংখ্য ভুয়ো এটিএম কার্ড, ব্যাংকের পাসবুক, অজস্র জাল সিম কার্ড এবং নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা। এডিসি রাহুল পাণ্ডে জানান, ধৃতদের কোনও কম্পিউটার ব্যাকগ্রাউন্ড বা উচ্চশিক্ষার প্রমাণ নেই, অথচ এদের ডেরা থেকেই পরিচালিত হতো হ্যাকিং ও এটিএম খালি করার পুরো কারবার। ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে মূল কারবারিদের খোঁজে জেরা করা হচ্ছে।

দুর্গাপুরের হোটেলেও সক্রিয় ‘জামতাড়া’ জালিয়াতি চক্র: অন্যদিকে, শুধু আসানসোল নয়, দুর্গাপুরের সাধুডাঙা এলাকার একটি হোটেলকে রীতিমতো ‘অফিস’ বানিয়ে জালিয়াতি চালাচ্ছিল চার যুবক। দেওঘরের বাসিন্দা গণেশ সর্দার, শচীন দাস, জিতেন্দ্র কুমার দাস ও সুরেন্দ্র দাস—এই চার অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে দুর্গাপুর থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রের খবর, ধরা পড়ার এড়াতে তারা ঘন ঘন হোটেল বদলাত। হোটেল কক্ষে বসেই ব্যাংকের আধিকারিক, লোন কিংবা গ্যাস কানেকশনের লোভ দেখিয়ে সারাদেশের মানুষের কষ্টার্জিত টাকা নিমেষে সাফা করে দিত এরা। ধৃতদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ও বিভিন্ন নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে পুরোপুরি সাইবার অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই ধরপাকড় ও অভিযান টানা চলবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট।