ট্রেনের বগির ভিতর উমা! শান্তিপুর থেকে বনগাঁ, এক প্রতিমার যাত্রাই পরিণত হল মহোৎসবে

পুজোর আগে শান্তিপুরের কুমোরপাড়ার মাটির গন্ধ আর শিল্পীর হাতের জাদু, এই দুইয়ের টানেই যেন প্রতি বছর তৈরি হয় এক নতুন সম্পর্ক। এই সম্পর্কেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বনগাঁর সুরঞ্জন মণ্ডল এবং শান্তিপুরের প্রতিমা শিল্পী গোরাচাঁদ পাল। টানা ১১ বছর ধরে সুরঞ্জন মণ্ডলের পুজো মণ্ডপ আলোকিত হচ্ছে গোরাচাঁদ পালের হাতে গড়া প্রতিমায়।
শান্তিপুর থেকে বনগাঁ: উমার রেলযাত্রা
গোরাচাঁদ পালের প্রতিমা যেন মাটির ছোঁয়া পেরিয়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে। উমার এই প্রতিমা শান্তিপুর থেকে রেলপথে পাড়ি দেয় বনগাঁর উদ্দেশ্যে। শান্তিপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে প্রতিমা তোলার সেই মুহূর্তটা এক উৎসবের রূপ নেয়। ভক্তরা ভিড় জমান, এক ঝলক দেবী দর্শনের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। এই দৃশ্য যেন পুজোর মূল অনুষ্ঠানের আগেই এক আনন্দময় মহোৎসবের জন্ম দেয়।
প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং নতুন অভিজ্ঞতা
এ বছর প্রবল বৃষ্টির কারণে ট্রেনের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে যাওয়ায় প্রতিমার অপেক্ষার সময়টা বেড়েছে। কিন্তু এই অপেক্ষাই ভক্তদের জন্য এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। ট্রেনের বগির ভিতর প্রতিমার সামনে হাত জোড় করে প্রণাম, ভক্তি আর মিলনমেলার এক ভিন্ন আমেজ তৈরি হয়েছে।
গোরাচাঁদ পালের হাতের গড়ন, সুরঞ্জন মণ্ডলের ভালোবাসা এবং হাজারো ভক্তের ভক্তি — এই সবকিছুই প্রমাণ করে, শান্তিপুরের মাটি আর বনগাঁর আলোর মধ্যে এক প্রতিমার যাত্রাই তৈরি করেছে এক অনন্ত বন্ধন।