ট্রেনের কামরা থেকে সোজা রেললাইনের ধারে দেহ! গুয়াহাটির ২১ বছর বয়সি নৃত্যশিল্পীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে চরম রহস্য!

গুয়াহাটির এক ২১ বছর বয়সি নৃত্যশিল্পী ও কলেজ ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অন্ধ্রপ্রদেশে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। ফেরার পথে ৬ অক্টোবর রাত প্রায় ১২টা ১৫ মিনিটে বিশাখাপত্তনম স্টেশন থেকে কন্যাকুমারী-ডিব্রুগড় বিবেক সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে (এস-২ কামরা) ওঠেন তিনি। পরীক্ষার জন্য তিনি দলের আগেই একা ফিরছিলেন।
ট্রেনে ওঠার পরেই শুরু হয় মর্মান্তিক পরিণতি। ছাত্রীর পরিবার ও বন্ধুদের দাবি, কামরায় বেশ কয়েকজন মত্ত পুরুষকে দেখতে পেয়ে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। নিজেকে চরম অনিরাপদ মনে করে তিনি বৌদি ও এক বন্ধুকে ফোন করেন এবং কামরার ভিতরের একটি ভীতিপ্রদ ভিডিও শেয়ার করেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে তাঁর চারপাশে মদ্যপ মানুষেরা বসে রয়েছে এবং তিনি ভীষণ ভয় পাচ্ছেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই, অর্থাৎ রাত আড়াইটে থেকে তিনটের মধ্যে তাঁর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত রেলের হেল্পলাইন ও ‘রেল মদাদ’ পোর্টালে যোগাযোগ করে সাহায্য চান। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF)-এর তরফ থেকে শ্রীকাকুলাম রোড স্টেশনে তল্লাশি চালানো হলেও সেই সময় মহিলার সন্ধান মেলেনি। অবশেষে বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলার পন্ডুরু এবং দুসি সেকশনের মাঝামাঝি রেললাইনের ধার থেকে তাঁর অজ্ঞাতপরিচয় ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে RPF। পরে জিআরপি (GRP) ও পরিবারের সদস্যরা শ্রীকাকুলাম সরকারি হাসপাতালে গিয়ে তাঁর মৃতদেহ শনাক্ত করেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ট্রেনের কামরার মধ্যেই ওই ছাত্রীর দুটি ব্যাগ সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে।
পরিবারের তরফ থেকে রেল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁদের স্পষ্ট প্রশ্ন, সাহায্য চাওয়ার পরও কেন রেলের তরফ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ করা হলো না? এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত খুন—তা নিয়েও তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছে পরিবার। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR) জানিয়েছে, বিশাখাপত্তনম, বিজয়নগরম এবং শ্রীকাকুলাম স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের বয়ান এবং স্টেশনে পৌঁছে দেওয়া পরিচিত ব্যক্তির বক্তব্য রেকর্ড করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পালাসা GRP। প্রাথমিক তদন্তে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যুর অনুমান করা হলেও নেপথ্যের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন সকলে।