ট্রেনের কামরায় লাল স্যুটকেস খুলতেই চরম আতঙ্ক! টুকরো করা পচাগলা দেহ কার? শিউরে ওঠা রহস্যে মোড়া তদন্ত

আগ্রা রেল স্টেশনের একটি সাধারণ ট্রেনের কামরা থেকে উদ্ধার হওয়া একটি লাল স্যুটকেস ঘিরে দানা বেঁধেছে চরম রহস্য। গত ৫ আগস্ট চেন্নাই সেন্ট্রাল থেকে নয়াদিল্লিগামী একটি ট্রেন আগ্রায় পৌঁছানোর পর যাত্রীরা তীব্র দুর্গন্ধ পান। এরপর রেল পুলিশের তরফ থেকে স্যুটকেসটি খোলার পর যে ভয়াবহ দৃশ্য সামনে আসে, তা তদন্তকারীদেরও স্তম্ভিত করে দেয়। ওই স্যুটকেসের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় এক মহিলার খণ্ডিত ও পচাগলা দেহ। এই রোমহর্ষক ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বর্তমানে ওড়িশা থেকে চেন্নাই পর্যন্ত অপরাধের এক বিরাট জালের হদিশ পেয়েছে, যা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৃশংসভাবে খুন হওয়া ওই মহিলার নাম হায়াতুন নিশা, বয়স ৩৮ বছর এবং তিনি ওড়িশার বাসিন্দা ছিলেন। তদন্তকারী দলের প্রাথমিক অনুমান, ওই মহিলাকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় খুন করার পর দেহ টুকরো টুকরো করে স্যুটকেসে ভরে দেওয়া হয়েছিল। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে মানিক উদ্দিন লস্কর এবং ভাগবতী মাঝি নামে দুই ব্যক্তির খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। আগ্রা স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে দুই ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট ট্রলি ব্যাগ নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা চেন্নাই সেন্ট্রাল রেল পুলিশের সহযোগিতায় এবং স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে চেন্নাইয়ের গুডুভাঞ্চেরি এলাকায় পৌঁছান।
পুলিশের ধারণা, ওই দুই সন্দেহভাজন গুডুভাঞ্চেরির একটি নির্দিষ্ট বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সেই বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পুলিশ এমন কিছু উদ্ধার করে যা তাদের চোখ কপালে তুলে দেয়। অভিযোগ, একটি রান্নার পাত্রের ভেতর থেকে পচাগলা মানবদেহের আরও কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই নতুন আবিষ্কারের ফলে ঘটনার রহস্য আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। ঘরের ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কীভাবে দেহাংশগুলি দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আগ্রায় নিয়ে যাওয়া হলো, তার প্রতিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এখনও পর্যন্ত দুই প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি এবং তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তবে তাদের নাগাল পেতে পুলিশ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি আদতে একই মহিলার কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য ফরেনসিক ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ওপর ভরসা রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, নিখোঁজ নিশার পরিবারের পক্ষ থেকে আগেই একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল, যার সূত্র ধরে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে অপরাধের সম্পূর্ণ নকশা পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।