টানা বৃষ্টি ও ডিভিসির জল ছাড়ায় রাজ্যের অবস্থা জটিল ও বন্যা পরিস্থিতি, জেনেনিন লিস্টে কোন কোন জেলা?

গত রবিবার থেকে একটানা বৃষ্টির জেরে রাজ্যজুড়ে দুর্যোগ ও দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানের একাধিক জায়গায় বন্যা পরিস্থিতি ঘনীভূত হচ্ছে। এর মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে ঝাড়খণ্ডে প্রবল বৃষ্টির কারণে ডিভিসি (DVC) জলাধার থেকে লাগাতার জল ছাড়া। রাজ্যের অভিযোগ, তাদের না জানিয়েই ডিভিসি জল ছাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই চাপানউতোরের মধ্যেই আবারও একাধিক জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “গত বছর জুনে মেদিনীপুরে বৃষ্টি হয়েছিল ৫৮৭.০৬ মিমি, আর এ বছর ৬ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১১২৬ মিমি। আমার দীর্ঘ জীবনে এমনটা আগে দেখিনি।” তিনি আরও জানান যে, এই পরিস্থিতি রাজ্যকে ‘দুই দিক থেকে স্যান্ডউইচ’ করে দিচ্ছে। একদিকে প্রবল বৃষ্টি, অন্যদিকে ডিভিসির বেহিসাবি জল ছাড়া। মন্ত্রী অভিযোগ করেন, আজও ডিভিসি রাজ্যকে না জানিয়েই দশ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে। “মাইথন, পাঞ্চেত, দুর্গাপুর ব্যারেজ সব মিলিয়ে বাংলাকে একদম স্যান্ডউইচ করে দিচ্ছে,” বলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর তৎপরতা ও মন্ত্রীর আহ্বান
মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী দমার পাত্রী নন। তিনি ২৪ ঘণ্টার ২১ ঘণ্টাই জেগে থাকেন। নিজেই কন্ট্রোলরুমে বসে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।” তিনি নিজেও গত দেড় মাস ধরে মাঠে মাঠে ঘুরে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মন্ত্রী গ্রামবাসীদের কাছে হাতজোড় করে আবেদন জানিয়েছেন, “আপনারাও একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। সবাই মিলে বাঁচতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীও আপনাদের দিকে নজর রেখেছেন।”

ত্রাণ প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক বৈঠক
গত শনিবার পাঁশকুড়ার বিডিও অফিসে জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন সেচমন্ত্রী। গত বছর নদীর জলস্তর বেড়ে পাঁশকুড়ার বিভিন্ন অংশ বন্যার কবলে পড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, চলতি বছর পর্যাপ্ত খাবার, ত্রিপল, ঔষধ-সহ বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী মজুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্যও।

নিরন্তর যোগাযোগ ও ত্রাণের ব্যবস্থা
সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া জানিয়েছেন, বন্যাপ্রবণ জেলাগুলোর প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে ত্রাণ পেতে কোনো অসুবিধা না হয়। পর্যাপ্ত ত্রিপল এবং শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী নিজেও পুরো পরিস্থিতির দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন।