“জ্ঞানেশ কুমার রাতে ঘুমাতে পারছেন না, ওকে জেলেই যেতে হবে!” রামলীলা ময়দানে রাহুল গান্ধীর তোলপাড় ফেলা মন্তব্য

নতুন দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সুবিশাল মহাসমাবেশ থেকে কেন্দ্র সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব ও বিধ্বংসী আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ ও গ্রেফতারির দাবিতে আয়োজিত এই জনসভা থেকে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন—২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’ ছিল এবং দেশের কোটি কোটি মানুষের ভোট চুরি করা হয়েছে।

সুবিশাল জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী সরাসরি দাবি করেন, ২০২৪-এর সাধারণ নির্বাচনের পর রহস্যজনকভাবে দেশের প্রায় ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

“জ্ঞানেশ কুমার রাতে ঘুমাতে পারছেন না”

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে গর্জে উঠে রাহুল গান্ধী বলেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের আজকাল রাতে ঘুম হচ্ছে না। আমার ওঁর জন্য খারাপ লাগে, কিন্তু উনি পুরো জাতির কণ্ঠস্বরকে গলা টিপে হত্যা করেছেন। জ্ঞানেশ কুমারের পর নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের রাতেও ঘুম হচ্ছে না। তবে মনে রাখবেন, আমরা ভালোবাসার মানুষ এবং এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়—এটি দেশের গণতন্ত্র বাঁচানোর আওয়াজ।”

কংগ্রেস নেতা আরও যোগ করেন, “আমাদের বিরোধী জোটের প্রথম পদক্ষেপই হলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে তাঁর পদ থেকে অপসারিত করা। জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ ছেড়ে পদত্যাগ করতেই হবে এবং দেশদ্রোহী এই অন্যায়ের জন্য তাঁকে জেলেও যেতে হবে।”

“২০২৪ সালের নির্বাচনটি সম্পূর্ণ চুরি করা ও অবৈধ ছিল”

নির্বাচন কমিশনের তথ্যকেই হাতিয়ার করে রাহুল গান্ধী তোপ দাগেন, “২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের পর ভারতের প্রায় ১৫ শতাংশ বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে একলপ্তে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর সোজা অর্থ হলো—২০২৪ সালের পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটাই ছিল বেআইনি ও অসাংবিধানিক। এটি একটি জলজ্যান্ত চুরি করা নির্বাচন ছিল! এ কথা শুধু আমি বলছি না, নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যানই তার বড় প্রমাণ।”

একাধিক রাজ্যের ভোটে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ

নিজের ভাষণে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনে দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে ভোট চুরি চালিয়ে আসা হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকের বিধানসভা নির্বাচনগুলির উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, এই প্রতিটি রাজ্যে চক্রান্ত করে জনগণের আসল রায়কে ছিনতাই করা হয়েছে।

দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের এই চরম সংহারী রূপ এবং সিইসি-র কারাবাসের হুঁশিয়ারি—জাতীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।