“জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ করা উচিত!” ভোটচুরি বিতর্কে সরাসরি তোপ দেগে বোমা ফাটালেন প্রশান্ত কিশোর

ভোটচুরির অভিযোগে উত্তাল গোটা দেশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যখন তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি, ঠিক তখনই এই ইস্যুতে সুর চড়ালেন ‘জন সুরাজ পার্টি’র প্রধান তথা রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর। সমস্তিপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, সমস্যাটি কেবল জ্ঞানেশ কুমার বা কোনো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর শেকড় অনেক গভীরে বিস্তৃত।

প্রশান্ত কিশোরের অভিযোগ, গত ৮-১০ বছর ধরে দেশের একটা বড় অংশ নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে लगातार প্রশ্ন তুলে আসছে। ভোটার তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা, আদর্শ আচরণবিধি লাগু করা, পর্যবেক্ষক মোতায়েন এবং ভোট গণনার সময় অনিয়মের বহু নজির রয়েছে। যা থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে কমিশন কোনো না কোনোভাবে শাসকদলের সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে। শুধু বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারই নন, প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারকেও তীব্র আক্রমণ করেন পিকে। তিনি বলেন, “জ্ঞানেশের পদত্যাগ করা উচিত। রাজীব কুমারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যিনি অবসরের পরেই এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান পদ পেয়েছেন।”

উল্লেখ্য, রাজীব কুমারকে নিয়ে এর আগেও সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়কার বিতর্ক তুলে অভিষেকের মন্তব্য ঘিরেও কম জলঘোলা হয়নি। এদিকে, এসআইআর (SIR) বিতর্ক এবং ভোটচুরির অভিযোগে ইতিমধ্যেই ফুঁসছে দেশ। জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেছে দেশের যুবসমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রের খবর, বিরোধীদের একটি প্রতিনিধি দল এই গুরুতর বিষয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশজুড়ে চলা এই রাজনৈতিক টালবাহানা ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন এখন ভারতীয় রাজনীতির সবচেয়ে চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে।