জোট নাকি একলা চলো নীতি? আসন ভাগাভাগি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ—পাঞ্জাবে কোথায় আটকে গেল বিজেপি-আকালি সমীকরণ?

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক ময়দানে শোরগোল ফেলে দিয়েছে বিজেপি এবং শিরোমণি আকালি দল (SAD)-এর সম্ভাব্য জোটের জল্পনা। যদিও প্রকাশ্যে বিজেপি নেতৃত্ব এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ এবং জোটের গুঞ্জন উড়িয়ে দিচ্ছে, তবে অন্দরের খবর বলছে যে পর্দার আড়ালে আসন ভাগাভাগি এবং মুখ্যমন্ত্রীর মুখ কে হবেন—তা নিয়ে দুই দলের মধ্যে তীব্র দরকষাকষি চলছে।
আসন বণ্টন ও ক্ষমতার লড়াইয়ে কোথায় জট? অতীতে পাঞ্জাবের ১১৭টি বিধানসভা আসনের মধ্যে প্রথাগত ফর্মুলা অনুযায়ী আকালি দল ৯৪টিতে এবং বিজেপি মাত্র ২৩টি আসনে লড়াই করত। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজ্যের মাটিতে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করছে বিজেপি। সেই সূত্র ধরেই গেরুয়া শিবির এবার আর আগের মতো কম আসনে সন্তুষ্ট থাকতে নারাজ। খবর অনুযায়ী, বিজেপি প্রায় ৫৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার দাবি জানিয়েছে, অথচ আকালি দল তাদের বড়জোড় ৪৫টি আসন ছাড়তে রাজি হচ্ছে। নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব ও শক্তির কথা মাথায় রেখে দুই দলই সমানাধিকার বা বড় অংশীদারিত্বের দাবি তোলায় দরকষাকষিতে বড় রকমের জট তৈরি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ও আধা-শহুরে আসন নিয়ে সংঘাত: আসন সংখ্যার পাশাপাশি জোটের বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বা প্রার্থীর বিষয়টি। সূত্র মারফত জানা গেছে, নির্বাচনের ফলাফলের পর যৌথভাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী ঠিক করার পক্ষপাতী বিজেপি। পক্ষান্তরে, শিরোমণি আকালি দল ভোট ময়দানে নামার আগেই সুখবীর বাদলকে জোটের পোড় খাওয়া মুখ হিসেবে সামনে আনতে মরিয়া। এছাড়া, প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে আধা-শহুরে আসনগুলি নিজেদের কব্জায় রাখতেও দুই দলের মধ্যে মতবিরোধ চলছে।
এদিকে, জোট না হলে যে বিজেপি একাই রাজ্যের সমস্ত আসনে লড়াই করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলের জাতীয় সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ। সম্প্রতি তাঁর পাঞ্জাব সফরকালে দলীয় নেতাদের একলা চলো নীতিতেই প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বিদেশ সফর থেকে ফেরার পরেই পাঞ্জাবে এনডিএ জোটের ভাগ্য চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট চিত্র সামনে আসবে।