জেএনইউ-তে চরম যৌন কেলেঙ্কারি! অতিরিক্ত নম্বরের লোভ দেখিয়ে ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব অধ্যাপকের!

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় বা জেএনইউ-এর (JNU) প্রাঙ্গণে এক প্রবীণ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর যৌন হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে গোটা শিক্ষা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও হুলস্থূল পড়ে গিয়েছে (JNU sexual harassment)। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া একটি মৌখিক পরীক্ষার (Viva-Voce) ঠিক পরেই শিক্ষার্থীদের একটি অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) গ্রুপে চলা দীর্ঘ আলোচনার সূত্র ধরেই মূলত এই চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে সেই ঘটনার সূত্র ধরেই একের পর এক ছাত্রী সামনে এসে ওই একই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অনুরূপ নিগ্রহের চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন (Jawaharlal Nehru University news)। বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মোট ১১ জন সাহসী পড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি বা ইন্টারনাল কমপ্লেন্টস কমিটি (Internal Complaints Committee)-র দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন (JNU students complaint)। নিগৃহীতা ছাত্রীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষার সময় ওই অধ্যাপক অত্যন্ত আপত্তিকর ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতেন এবং পরীক্ষায় অতিরিক্ত ভালো নম্বর পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে কুপ্রস্তাব বা যৌন সুবিধা অর্জনের অবৈধ দাবি করতেন।

প্রাথমিক তদন্ত ও সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, চলতি বছরের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর এক ভুক্তভোগী ছাত্রী পড়ুয়াদের একটি সক্রিয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন। তাঁর সেই বিস্ফোরক বার্তার পরেই একে একে অন্য ছাত্রীরাও মুখ খুলতে শুরু করেন এবং নিজেদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনুরূপ হয়রানির ভয়ংকর তথ্য তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির নজরে আসে। এরপর কমিটি তৎক্ষণাৎ তৎপর হয়ে সমস্ত অভিযোগকারী ছাত্রীদের নির্দিষ্ট দিনে ডেকে পাঠান এবং তাঁদের গোপন বক্তব্য ও তথ্য প্রমাণ রেকর্ড করার জোরালো প্রক্রিয়া শুরু করেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রীদের সুনির্দিষ্ট ও কঠোর অভিযোগে বলা হয়েছে যে, মৌখিক পরীক্ষার সময় ওই অধ্যাপক যেভাবে কথা বলতেন, তাতে স্পষ্টতই তীব্র যৌন ইঙ্গিত থাকত। শুধু তাই নয়, তাঁর কথাবার্তার মূল সুরটি এমন ছিল যাতে ছাত্রীরা বুঝতে পারেন যে শিক্ষকের সেই অনৈতিক ও অবৈধ প্রস্তাবে রাজি হলে পরীক্ষার মার্কশিটে অতিরিক্ত নম্বর পাওয়ার রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে এই হয়রানি কেবল পরীক্ষাকক্ষের চার দেওয়ালের মধ্যে বা ভাইভার দিনেই সীমাবদ্ধ ছিল না বলে দাবি করেছেন একাধিক পড়ুয়া। তাঁদের গুরুতর অভিযোগ, অভিযুক্ত অধ্যাপক তাঁদের জেএনইউ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অবস্থিত নিজের বাসভবনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানাতেন এবং সেখানেও তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত আপত্তিকর ও যৌন হেনবামূলক আচরণ করা হতো। পাশাপাশি, নিয়মিত ক্লাস চলাকালীনও ওই অধ্যাপক ভরা ক্লাসের সামনে অশালীন, কুরুচিকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করতে পিছপা হতেন না বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন সিনিয়র পড়ুয়া।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার ঠিক পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্ধারিত প্রায় ৪৫ দিনের দীর্ঘ সেমেস্টার ছুটি শুরু হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বিষয়টি কিছুটা ধামাচাপা পড়েছিল। কিন্তু জুলাই মাসে ছুটি শেষে ক্যাম্পাস পুনরায় খুললে ক্লাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা আবার জোরালোভাবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এরপর আরও বেশ কয়েকজন নতুন ও সিনিয়র পড়ুয়া সাহস সঞ্চয় করে একই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবিতে সামনে এগিয়ে আসেন।

বর্তমানে এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির কঠোর নজরদারিতে এবং তদন্তের আওতাধীন রয়েছে। তবে মিডিয়ার তরফ থেকে যোগাযোগ করা হলে তদন্ত কমিটি এই বিষয়ে এই মুহূর্তে গণমাধ্যমের সামনে কোনো রকম মন্তব্য বা বিবৃতি দিতে পুরোপুরি অস্বীকর্য প্রকাশ করেছে। তাঁদের সাফ কথা, এটি সম্পূর্ণরূপে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় প্রশাসনিক বিষয় এবং বর্তমানে এর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, জেএনইউ প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের পক্ষ থেকেও এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, জেএনইউ ক্যাম্পাসে এই ধরনের যৌন হেনস্থার ঘটনা অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগেও শৃঙ্খলাভঙ্গ ও যৌন নিগ্রহের গুরুতর অভিযোগে এক প্রবীণ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বছরের এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল (Executive Council) পৃথক কয়েকটি পৃথক মামলার চুলচেরা বিচার করে মোট ৪ জন কর্মরত ব্যক্তিকে সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছিল। সেই বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য নাম ছিল স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিসের (School of International Studies) অত্যন্ত প্রবীণ ও প্রভাবশালী অধ্যাপক স্মরণ সিংয়ের (Swaran Singh)। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শীর্ষ আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, জাপানি দূতাবাসের এক কূটনৈতিক আধিকারিককে কেন্দ্র করে ঘটা একটি গুরুতর যৌন হেনস্থার অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানের এই নতুন ঘটনাটি সেই পুরনো স্মৃতির জখমকেই ফের উসকে দিয়েছে এবং জেএনইউ ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছে।