জাভা সাগরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! ২৪৩ জন যাত্রী নিয়ে মাঝসমুদ্রে উলটে গেল মেগা জাহাজ, নিখোঁজ ১৪০

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামুদ্রিক পথে ফের বড়সড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। প্রায় ২৪৩ জন যাত্রী ও কর্মী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে আচমকা উলটে গেল ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ (Virgo Transport 8) নামের একটি বিশাল যাত্রীবাহী জাহাজ। রবিবার দুপুর পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও নিখোঁজ অন্তত ১৪০ জন। উদ্ধার করা হয়েছে একজনের মৃতদেহ। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বহুগুণ বাড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
কী ঘটেছিল মাঝসমুদ্রে?
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার সুরাবায়া বন্দর থেকে শনিবার সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে যাত্রা শুরু করেছিল জাপান-নির্মিত এই বিশাল ফেরিটি। রবিবার দুপুর ২টোর দিকে দক্ষিণ কালিমাতানের বানজারমাসিনে পৌঁছনোর কথা ছিল এটির। কিন্তু পথেই বিপত্তি ঘটে।
উদ্ধারকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে:
১০ ফুটের দানবীয় ঢেউ: দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে জাহাজের ক্যাপ্টেন নিয়ন্ত্রণকক্ষে বার্তা পাঠিয়ে জানান, সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল এবং প্রায় ৩ মিটার (১০ ফুট) উঁচু ঢেউয়ের মুখে পড়ে জাহাজটি একদিকে চরমভাবে হেলে পড়ছে।
হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন: রাত আনুমানিক ২টোর পর জাহাজটির সঙ্গে تمام যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে উত্তাল ঢেউয়ের দাপটে জলযানটি জাভা সাগরে উলটে গিয়েছে।
পরিস্থিতি সামলাতে মরিয়া উদ্ধারকারী দল
বানজারমাসিন ঘাট থেকে প্রায় ১৪৮ কিলোমিটার দূরে শেষ চিহ্নিত অবস্থানে অবিলম্বে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সি (Search and Rescue Office)।
সংস্থার প্রধান ই পুতু সুদায়ানা জানিয়েছেন, কোস্টগার্ডের जहाজের পাশাপাশি আশপাশে থাকা টাগবোট ও অন্যান্য জলযানকে দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে সমুদ্রের পরিস্থিতি ও উত্তাল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
ইন্দোনেশিয়ার মতো ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপের দেশে দ্বীপ থেকে দ্বীপে যাতায়াতের প্রধান ভরসা এই জাহাজ ব্যবস্থা। তবে দুর্বল নিরাপত্তা বিধি ও যাত্রীবাহী ফেরি নিয়ন্ত্রণে শিথিলতার কারণে মাঝেমধ্যেই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
মাত্র চার দিন আগে ফিলিপিন্সে একটি জাহাজে আগুন লেগে অন্তত ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জাভা সাগরে রবিবারের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলপথের যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।