পূজামণ্ডপে আর বসবে না বামেদের বইস্টল? বিরোধীদের কড়া হানায় পাল্টা গর্জে উঠল সিপিআই(এম)!

দুর্গাপূজা আসতে না আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে মাথাচাড়া দিল বইস্টল বিতর্ক। পূজামণ্ডপের কাছাকাছি এলাকায় রাজনৈতিক বইস্টল বসানো এবং সেখানে দলীয় সাহিত্য বিক্রি করা নিয়ে বিরোধী পক্ষ থেকে তীব্র তোপ দাগা হয়েছে। বিরোধী নেতৃত্বের দাবি, ধর্মীয় উৎসবের আঙিনায় ধর্মবিরোধী রাজনীতি ও মতাদর্শ প্রচার বন্ধ করা উচিত। এমনকি ‘দুর্গাপূজা’র বদলে ‘শারদোৎসব’ লেখার অজুহাতে স্টল না বসতে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।

তবে এই বিরোধিতাকে খাটো করে দেখতে নারাজ বাম নেতৃত্ব। পাল্টা জবাব দিয়ে সিপিআই(এম) জানিয়েছে, দুর্গাপূজার মণ্ডপের পাশে বইস্টল বসানো কোনো নতুন বিষয় নয়; ১৯৫৪ সাল থেকে এটি তাদের সাড়ে সাত দশকের দীর্ঘ ঐতিহ্যের অংশ।

বিতর্কের মূল কেন্দ্রে কী?

  • বিরোধীদের তোপ: বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের দাবি, বামপন্থীরা ধর্মে বিশ্বাস করেন না, তাই ধর্মীয় উৎসবে তাদের বইস্টল দেওয়ার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাদের অভিযোগ, এই স্টলগুলিতে মার্ক্স-লেনিনের বই থাকলেও ভারতীয় মনীষীদের আদর্শকে অবহেলা করা হয়।

  • বাম নেতৃত্বের পাল্টা জবাব: সিপিআই(এম) রাজ্য নেতৃত্ব বিরোধীদের এই অভিযোগকে ‘ফ্যাসিবাদের লক্ষণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বইস্টলে শুধু মার্ক্সবাদী সাহিত্যই নয়, স্বামী বিবেকানন্দসহ প্রগতিশীল ও সামাজিক ইতিহাসের বইও সমানভাবে থাকে।

  • শারদোৎসব বনাম দুর্গাপূজা: উৎসবকে কেবল ধর্মীয় আবহে সীমাবদ্ধ না রেখে রবীন্দ্রনাথের ‘শারদোৎসব’-এর মতো সার্বজনীন সাংস্কৃতিক রূপ দেওয়ার পক্ষেই যুক্তি দিয়েছেন বাম নেতারা।

উৎসবের মরশুমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনীতি ও সংস্কৃতির এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর পুরো রাজ্যবাসীর।