জলপাইগুড়ি হাসপাতালে মর্গে রাখা মৃতদেহের গা থেকে চুরি গেল সোনার গয়না! পুলিশের দ্বারস্থ পরিবার

জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের মর্গে রাখা এক মৃতদেহের শরীর থেকে সোনার গয়না চুরি যাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থা ও অসহযোগিতার অভিযোগে সরব হয়েছে মৃতের পরিবার। এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ময়নাগুড়ি ব্লকের দোমোহনী মরিচ বাড়ির বাসিন্দা মনখুশি বাউলি (৬৫) সোমবার সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার পর তাঁর মৃত্যু হয়। যেহেতু মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট ছিল না, তাই ময়নাতদন্তের জন্য মনখুশি বাউলির দেহ মর্গে রাখা হয়।
পরিবার সূত্রে অভিযোগ, শোকবিহ্বল অবস্থায় রাতে মনখুশি বাউলির গায়ে থাকা সোনার গয়নাগুলি খুলে নিতে ভুলে যান পরিবারের সদস্যরা। মর্গের দায়িত্বে থাকা কর্মীরাও সেই সময় তাঁদের বাড়ি চলে যেতে বলেন।
পরে রাতে পরিবারের সদস্যদের মনে পড়ে যে গয়না খোলা হয়নি। তাই মঙ্গলবার ভোরবেলা মৃতের নাতনি পূর্ণিমা রায় মর্গে আসেন। কিন্তু, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর মর্গ খোলা হলে দেখা যায় মনখুশি বাউলির গায়ের সমস্ত গয়না উধাও। গয়না কোথায় গেল, এই প্রশ্ন করা হলে মর্গের কর্মীরা কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ। উল্টে তাঁরা পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “আগে খুলে নিলেন না কেন?”
নাতনির অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের আশ্বাস:
মৃতের নাতনি পূর্ণিমা রায় অভিযোগ করেন, “দিদাকে অসুস্থতার জন্য নিয়ে এসেছিলাম। মারা যাওয়ার পর আমরা কান্নায় ভেঙে পড়ি, গয়না খোলার কথা মনে ছিল না। ভোরে এসে দেখি গয়না নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঠিকঠাক জবাব দিতে পারেনি, তাই থানায় এসেছি।”
এ নিয়ে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহ-উপাচার্য চিকিৎসক কল্যাণ খাঁ বলেন, “মৃতার শরীর থেকে সোনার গয়না খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আমরা চাই পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। আমরা তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা করব। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই পদক্ষেপ করা হবে।”