জন্মের পরেই সোজা সোনার আংটি! থালাপথি বিজয়ের চমকপ্রদ প্রকল্পের সুফল পাবেন কারা?

তামিলনাড়ুর রাজনীতি ও জনসাধারণের মধ্যে উত্তেজনা ও কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। সোমবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে চলেছেন বহুচর্চিত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘থায়ামামান থাঙ্গা মোথিরাম থিট্টাম’। এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যজুড়ে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে এক গ্রাম ওজনের ২২-ক্যারেটের একটি খাঁটি সোনার আংটি।
সোমবার একটি বিশেষ ফ্লাইটে মাদুরাই পৌঁছে সরকারি রাজাজি হাসপাতালে (জিআরএইচ) এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। অডিটোরিয়ামে ২৫ জন নবজাতকের হাতে সোনার আংটি তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সরাসরি প্রসূতি ওয়ার্ডে গিয়ে মা ও সদ্যজাত শিশুদের সঙ্গে দেখা করবেন এবং নিজ হাতে তাদের আংটি পরিয়ে দেবেন।
প্রকল্পের বিশাল বাজেট ও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা
এই মেগা প্রকল্পটি রূপায়ণের জন্য রাজ্য সরকার প্রায় ৭৫৫.৮৩ কোটি টাকার বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ করেছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ১.২৮ লক্ষ সোনার আংটি তৈরি করা হয়েছে। বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো রকম দুর্নীতি বা জালিয়াতি রোধ করতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সোনার আংটিতে থাকবে একটি অনন্য ক্রমিক নম্বর এবং সেগুলি সম্পূর্ণ টেম্পার-প্রুফ প্যাকেজিংয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। স্থানীয় পর্যায়ে এই প্রকল্প সফলভাবে পরিচালনা এবং বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই সোনার আংটি তৈরির কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নামী প্রতিষ্ঠান জয়ালুক্কাস এবং কল্যাণ জুয়েলার্সকে।
কারা পাবেন এই সোনার আংটি?
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও শর্ত পূরণ করতে হবে:
সদ্যজাত শিশুর মাকে অবশ্যই তামিলনাড়ুর স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
সুবিধাভোগীদের অবশ্যই ‘প্রেগন্যান্সি অ্যান্ড ইনফ্যান্ট কোহর্ট মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন’ (PICME) সিস্টেমের অধীনে নিবন্ধিত থাকতে হবে এবং একটি বৈধ ‘রিপ্রোডাক্টিভ অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ’ (RCH) আইডি থাকতে হবে।
হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার সময়ই যোগ্য নবজাতকরা এই সোনার আংটি উপহার হিসেবে পাবে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র জনকল্যাণ নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং হাসপাতালে নিরাপদ প্রসবকে উৎসাহিত করা। তামিলনাড়ুতে প্রতি বছর প্রায় ৭ লক্ষ ৮০ হাজার শিশুর জন্ম হয়। পরিসংখ্যান বলছে, এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ প্রসব অর্থাৎ প্রায় ৪ লক্ষ ২০ হাজার শিশু সরকারি হাসপাতালেই জন্ম নেয়। সরকারের এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপে সরকারি প্রসবের হার আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাদুরাইয়ের এই কর্মসূচি ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী বিজয় আজ নবনির্মিত গান্ধী মেমোরিয়াল মিউজিয়ামের উদ্বোধন করবেন এবং এর বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখবেন। সব মিলিয়ে, বিজয়ের এই মাস্টারস্ট্রোক প্রসূতি ও নবজাতক সুরক্ষায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।