ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে বড় চমক? মমতার দল ছেড়ে এবার অন্য সমীকরণে কুড়ি জন বিদ্রোহী সাংসদ!

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে একের পর এক চাঞ্চল্যকর পটপরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের অসন্তোষ এবার প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। দলের অন্দরের মতপার্থক্য এবং কৌশলগত দূরত্বের জেরে তৃণমূলের প্রায় কুড়ি জন লোকসভা সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী অংশটি একটি পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে পথ চলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংসদীয় রাজনীতিতে এই নতুন গোষ্ঠী প্রথমে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই-এর সঙ্গে হাত মেলানোর কথা ভাবলেও, সেখানে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় এবার নতুন ছক কষা হয়েছে। আর সেই পথ ধরেই সামনে এসেছে ‘বহুজন এনসিপিআই’ গঠনের পরিকল্পনা।
ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নতুন রাজনৈতিক সংগঠন ও ট্রাস্টের পক্ষে প্রচার শুরু হয়েছে। দলিত, মুসলিম, আদিবাসী এবং অন্যান্য পিছিয়ে থাকা ও প্রান্তিক জনজাতিকে এই নতুন ধারার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। নতুন এই সংগঠনের সমস্ত স্তরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তত পঁচিশ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, দলের অন্দরের এই তৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত, ভোটের ঠিক পরেই শাসক দলের অন্দরে এই ধরনের ভাঙন বা ভিন্ন সুর তৈরি হওয়া আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে এক বড় ধরনের মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দল হিসেবে না দেখে প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নে একটি বিশেষ শাখা বা সামাজিক ট্রাস্ট হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা চলছে, তবুও তৃণমূলের অন্দরে এই ক্ষোভ ও বিদ্রোহের প্রভাব কতটাদূর গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।