ছয় মাসের অর্ডার ইতিমধ্যেই ফুল! কেন হাড়হিম করা ক্রেতার ভিড়ে রয়্যাল এনফিল্ডের নতুন বাইক নিয়ে শোরগোল?

অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাজারে আসার পর থেকেই বাইক বাজারে ঝড় তুলেছে রয়্যাল এনফিল্ডের নতুন ‘হিমালয়ান ৪৪০’। ক্রেতাদের কাছ থেকে এতটাই অভাবনীয় ও আকাশছোঁয়া সাড়া মিলেছে যে, বাধ্য হয়ে এই জনপ্রিয় বাইকটির বুকিং সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কোম্পানি। রয়্যাল এনফিল্ড সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমান বুকিংয়ের চাপ এতটাই বেশি যে আগামী ছয় মাসের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ইতিমধ্যেই পূরণ হয়ে গেছে। ফলে既存 গ্রাহকদের সময়মতো নিখুঁত ডেলিভারি নিশ্চিত করতেই এই কড়া ও জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে ম্যানেজমেন্ট। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি করা হচ্ছে এবং প্রোডাকশন বাড়লেই খুব শীঘ্রই হিমালয়ান ৪৪০-এর বুকিং পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
চলতি মাসের শুরুতে লাদাখের দুর্গম উপত্যকায় আয়োজিত রয়্যাল এনফিল্ডের প্রথম ‘হিমালয়ান বেস ক্যাম্প’ ইভেন্টে জাঁকজমকের সঙ্গে উন্মোচন করা হয়েছিল এই বাইকটি। কোম্পানির প্রাথমিক অনুমানকে বহু গুণে ছাপিয়ে বাইকটির প্রতি ক্রেতাদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। প্রসঙ্গত, রয়্যাল এনফিল্ডের বিখ্যাত ‘হিমালয়ান’ ব্র্যান্ডটি বাজারে তার সফল পথচলার ১০ বছর পূর্ণ করল। দীর্ঘ এক দশকে বিশ্বজুড়ে পুরোনো হিমালয়ান ৪১১ এবং নতুন হিমালয়ান ৪৫০ মিলিয়ে ৩.২ লক্ষেরও বেশি ইউনিট বিক্রি করে রেকর্ড গড়েছে এই ব্র্যান্ড। বিশেষ করে হিমালয়ান ৪৫০ বিশ্ববাজারে ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ বিক্রির গণ্ডি পার করে ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশের সেগমেন্টে এক নম্বর অ্যাডভেঞ্চার বাইকের খেতাব অর্জন করেছে।
নতুন রয়্যাল এনফিল্ড হিমালয়ান ৪৪০-এ রয়েছে একগুচ্ছ আকর্ষণীয় ও শক্তিশালী ফিচার। বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৪৩ সিসির একটি সিঙ্গেল-সিলিন্ডার, এয়ার-কুলড ইঞ্জিন, যা সর্বোচ্চ ২৫.৪ বিএইচপি শক্তি এবং ৩৪ এনএম টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। পুরোনো হিমালয়ান ৪১১-এর তুলনায় এর পাওয়ার আউটপুট প্রায় ৪.৫ শতাংশ এবং টর্ক ৬.৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি মসৃণ ৬-স্পিড গিয়ারবক্স। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় হোক বা হাইওয়েতে, বাইকটি খুব সহজেই ১২০ কিমি/ঘণ্টা সর্বোচ্চ গতি তুলতে পারে, তবে ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে রাইড করা সবচেয়ে আরামদায়ক। আমাদের টেস্ট রাইডে বাইকটি থেকে প্রায় ৩০ কিমি/লিটার পর্যন্ত দুর্দান্ত মাইলেজ পাওয়া গেছে।
ডিজাইন ও গঠনের দিক থেকেও বাইকটি বেশ নজরকাড়া। এতে রয়েছে আকর্ষনীয় গোলাকার হেডল্যাম্প, উঁচু উইন্ডস্ক্রিন, সোজা হয়ে বসার আরামদায়ক রাইডিং পজিশন এবং সামনে ২১-ইঞ্চি ও পিছনে ১৭-ইঞ্চি স্পোক হুইল। সিটের উচ্চতা ৮০০ মিমি এবং গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ২২০ মিমি হওয়ায় যেকোনো খানাখন্দ বা অফ-রোড ট্র্যাকে এটি অবলীলায় ছুটতে পারে। তবে হিমালয়ান ৪৫০-এর তুলনায় এর ফিচার প্যানেল বেশ সাদামাটা রাখা হয়েছে; এতে ফুল-কালার টিএফটি স্ক্রিন বা ট্র্যাকশন কন্ট্রোলের মতো আধুনিক গ্যাজেট না থাকলেও ডিজিটাল-অ্যানালগ ক্লাস্টার এবং ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট দেওয়া হয়েছে। এক্স-শোরুম অনুযায়ী এই দুর্দান্ত অ্যাডভেঞ্চার বাইকটির প্রারম্ভিক মূল্য শুরু হচ্ছে মাত্র ২.২৯ লাখ টাকা থেকে।