স্কুলের ভেতরেই দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি! ব্যাগে মিলল নোট, নেপথ্যে কি অন্য কোনো রহস্য?

স্কুলের ক্যাম্পাসের মধ্যেই চরম ও মর্মান্তিক এক পথ বেছে নিল দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী। দিল্লির একটি সরকারি স্কুলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঠিক কী কারণে ওই কিশোরী নিজের জীবন এমনভাবে শেষ করে দিল, এখন তারই চুলচেরা তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।
কোথায় ও কীভাবে ঘটেছিল ঘটনা? দিল্লির কৃষ্ণ নগর এলাকার সর্বোদয় কন্যা বিদ্যালয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলের নিরাপত্তারক্ষীর (গার্ড) ঘরের পিছন দিক থেকে ওই দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর দগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ ও তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান, স্কুল চত্বরেই নিজের গায়ে পেট্রোল জাতীয় দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল সে।
ব্যাগে মিলল নোট ও চাঞ্চল্যকর তথ্য: পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে মৃতার স্কুলব্যাগটি উদ্ধার করা হয়েছে। সেই ব্যাগ তল্লাশি করে মোট তিনটি নোট বা চিঠি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ব্যাগের ভেতর থেকে কিছু সন্দেহজনক বস্তুও মিলেছে, যা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ছাত্রীটি কোনো সম্পর্কের জটিলতা বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিল। তবে ঠিক কী কারণে এত বড় ও নির্মম সিদ্ধান্ত সে নিল, তা নিশ্চিত করতে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত: মৃত ছাত্রীরদিদি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনার দিন সকালেও বোন অত্যন্ত হাসিখুশি মনে বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। হঠাৎ এমন ঘটনা কী করে ঘটল, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। স্কুলে পৌঁছানোর পর সহপাঠী বা শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল কি না, তাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
খবর পাওয়ার পরই দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত নমুনা ও তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেন। ঘটনার নেপথ্যের আসল সত্য উন্মোচন করতে মৃতার পরিবার, সহপাঠী এবং স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একটানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্কুল চত্বরে এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।