চিলা পাখির বেগে যুদ্ধ করতেন’! রাজবংশী সমাজের বীর যোদ্ধা এবার শিলিগুড়িতে, কেন এই মূর্তি এত গুরুত্বপূর্ণ?

শিলিগুড়ির বানেশ্বরে অবস্থিত ইস্টার্ন বাইপাসে রাজবংশী সমাজের বীর যোদ্ধা বীর চিলা রায়ের একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর অবশেষে এই কিংবদন্তি সেনাপতির স্মৃতিকে অমর করে রাখার এই উদ্যোগ বাস্তব রূপ পেল। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল সমগ্র শহরবাসী।

মূর্তি স্থাপনে বিশেষ ভূমিকা
মূর্তিটি নির্মাণে আর্থিক এবং অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে মূল ভূমিকা পালন করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবী জে পি কানাড়িয়া। তার সহযোগিতা ছাড়া এই কাজ সম্ভব হত না বলে উপস্থিত বক্তারা জানান। জে পি কানাড়িয়া বলেন, “শহরে সমস্ত মনীষীদের মূর্তি রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন ধরে রাজবংশী সমাজের দাবি ছিল বীর চিলা রায়ের মূর্তি স্থাপনের। আজ সেই দাবি পূরণ হলো। এখন থেকে প্রতি বছর এখানে চিলা রায় দিবস পালন করা হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পদ্মশ্রী নগেন্দ্রনাথ রায়। তিনি বলেন, “বীর চিলা রায়ের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের স্মৃতি সংরক্ষণ কেবল রাজবংশী সমাজের নয়, সমগ্র উত্তরবঙ্গের জন্যই গর্বের বিষয়।”

কে ছিলেন বীর চিলা রায়?
বীর চিলা রায়ের আসল নাম ছিল শুক্লধ্বজ। তিনি কোচ রাজবংশের রাজা নরনারায়ণের ছোট ভাই এবং সুদক্ষ সেনাপতি ছিলেন। তিনি চিল পাখির মতো দ্রুতগতিতে যুদ্ধ করতেন বলে তাকে ‘চিলা রায়’ নামে ডাকা হত। তিনি তার যুদ্ধ কৌশলের মাধ্যমে কাছাড়ি, মণিপুরি, অহম এবং ভুটিয়া সৈন্যদের পরাজিত করেছিলেন। তিনি বিশ্বের অন্যতম সফল গেরিলা যুদ্ধ কৌশল প্রবর্তকদের মধ্যে একজন হিসেবে পরিচিত।