চিনির দামে আগুন! হু হু করে বাজারদর বাড়ায় নবান্নের কড়া হুঁশিয়ারিতে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন!

চাল, ডাল, ভোজ্য তেল থেকে শুরু করে শাকসবজি—বাজারে পা দিলেই ছ্যাঁকা খাচ্ছে সাধারণ মধ্যবিত্ত। হু হু করে বাড়ছে প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম। বিশেষ করে গত কয়েকদিনে চিনির দামের লাফিয়ে বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আমজনতাকে স্বস্তি দিতে এবার একেবারে কঠোর পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্নে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই চিনির বাজারদর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সেইসঙ্গে অসাধু ও মজুতদার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া আইনি ব্যবস্থার হুশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, বেআইনিভাবে খাদ্যপদ্রব্য মজুতকারী কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। চিনির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিনির দাম সম্প্রতি কিছুটা গোলমাল তৈরি করেছিল। আগে এর দাম ৪২ টাকার আশপাশে থাকলেও গত দু-সপ্তাহে তা বেড়ে ৫৮ এবং সম্প্রতি ৬৮ টাকায় পৌঁছেছে। তবে প্রশাসন ইতিমধ্যেই দাম বৃদ্ধির আসল ‘লিকেজ’ বা ফাঁকফোকর কোথায় রয়েছে, তা চিহ্নিত করে ফেলেছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্যজুড়ে একযোগে নতুন টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের ৭২টি মহকুমা স্তরে এবং ৩৫টি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি স্তরে এই বিশেষ টাস্ক ফোর্সগুলি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। মহকুমা স্তরে এই ফোর্সের নেতৃত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট এসডিও এবং এসডিপিও-সহ অন্যান্য সরকারি আধিকারিকরা। অন্যদিকে, পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্ব দেবেন একজন ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিক। পাশাপাশি, খাদ্যে ভেজাল রুখতে খাদ্য পরিদর্শকদের নিয়েও বিশেষ বৈঠক করেছে প্রশাসন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গোটা রাজ্যজুড়ে ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ পালন করা হবে।
সামনেই দীর্ঘ উৎসবের মরসুম। এই সময়ে যাতে কোনোভাবেই চিনির অবৈধ মজুতদারি না হয়, তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই রাজ্যকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাজারে স্পেশাল নজরদারি চালানো হবে। সেই নির্দেশিকাকে সামনে রেখেই এবার সরাসরি মাঠে নেমেছে রাজ্য প্রশাসন।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই বাজার পরিদর্শনে নেমে পড়েছে কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ বা ইবি। লালবাজারের নির্দেশমতো ইবি-র দশটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি দলে চার থেকে পাঁচজন করে অভিজ্ঞ আধিকারিক রয়েছেন। কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্য খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে যৌথভাবে শহরের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরো বাজারে অভিযান চালাচ্ছেন তাঁরা। পাইকারি বাজার থেকে হাত বদল হয়ে খুচরো বাজারে আসার পথেই দাম বাড়ার মূল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। বর্তমানে খোলা বাজারে চালের দাম কেজিতে অন্তত তিন টাকা বেড়েছে, ৪৮ টাকার পেঁয়াজ একলাফে ৫৭ টাকায় পৌঁছেছে এবং ১৯০ টাকার রসুন বিক্রি হচ্ছে ২১৫ টাকায়। এছাড়া মুরগির মাংস ও সরষের তেলও ২০০ টাকার গণ্ডি পার করেছে। এই পরিস্থিতিতে চিনি ও পেঁয়াজসহ অন্তত ছয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যবস্তুর কালোবাজারি কঠোরভাবে দমন করতে বদ্ধপরিকর প্রশাসন। ইবি-র দলগুলি সরাসরি বাজারে পৌঁছে ব্যবসায়ীদের গোডাউন ও মজুত ভাণ্ডার খতিয়ে দেখছে, যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ ফায়দা লুটতে না পারে।