চিকিৎসার নামে হয়রানি, রাজ্য স্বাস্থ্য প্রকল্প থেকে সাসপেন্ড বারাসতের বেসরকারি হাসপাতাল

চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালকে রাজ্য স্বাস্থ্য প্রকল্পের তালিকা থেকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ‘কেয়ার অ্যান্ড কিওর’ নামের এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টাকা আদায়, জরুরি রোগী ভর্তি না নেওয়া এবং চুক্তি লঙ্ঘন-সহ একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার পর পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল সেল এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

কী অভিযোগ উঠেছে?
রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হাসপাতালের বিরুদ্ধে নিম্নলিখিত অভিযোগগুলি উঠেছে:

রোগী ভর্তি না-নেওয়া: স্বাস্থ্য প্রকল্পের অধীনে থাকা জরুরি রোগীদের ভর্তি নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করছিল, যা চুক্তি অনুযায়ী সরাসরি লঙ্ঘন।

অতিরিক্ত টাকা আদায়: অভিযোগ রয়েছে যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য প্রকল্পের নির্ধারিত খরচের চেয়ে অনেক বেশি টাকা রোগীর কাছ থেকে আদায় করছিল।

বিল ও রসিদে অনিয়ম: অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার পরেও অনেক ক্ষেত্রে সঠিক রসিদ দেওয়া হচ্ছিল না। এছাড়া, বিল তৈরির নির্দিষ্ট পদ্ধতিও মানা হচ্ছিল না।

রোগীদের কী হবে?
মেডিক্যাল সেলের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে নতুন কোনো রোগী রাজ্য স্বাস্থ্য প্রকল্পের অধীনে এই হাসপাতালে ভর্তি হতে পারবেন না। তবে, যাঁরা ইতিমধ্যে ভর্তি রয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো বাধা আসবে না। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সাসপেনশন জারির আগে যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তাঁরা চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবরকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে থাকবেন।

হাসপাতালের ভবিষ্যৎ
এই সাসপেনশন সাময়িক। অর্থ দফতরের মেডিক্যাল সেল এই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে এই হাসপাতালকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হবে, নাকি আবারও প্রকল্পের তালিকায় ফিরিয়ে আনা হবে, তা নির্ভর করছে তদন্তের ফলাফলের উপর। এদিকে, হাসপাতালের কর্ণধার তপনজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সরকার যা টাকা দেয়, তাতে সঠিকভাবে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া অসম্ভব।”