চিকিৎসার জন্য IIT থেকে IIT-তে বদলি! সুপ্রিম কোর্টে কেন আর্জি জানাল এক পড়ুয়া? কাঠগড়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ুয়া-মৃত্যুর অভিযোগের আবহে এবার আলোচনার কেন্দ্রে আইআইটি খড়্গপুর (IIT Kharagpur)। সম্প্রতি এক পিএইচডি গবেষকের রহস্যমৃত্যু নিয়ে কর্তৃপক্ষ যখন ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে, ঠিক তখনই এক স্নাতক ছাত্র আত্মহত্যার প্রবণতার (Suicidal tendency) অভিযোগ তুলে দিল্লি আইআইটিতে বদলি (Transfer to IIT Delhi) চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন।
ওই ছাত্রের দাবি, তিনি বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার-এ ভুগছেন এবং এর জন্য দরকার Repetitive Transcranial Magnetic Stimulation (RTMS) থেরাপি, যা সুলভ মূল্যে কেবল দিল্লির এইমসে (AIIMS Delhi) পাওয়া যায়।
ট্রান্সফারের দাবিতে কী বলছেন ছাত্রটি?
অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড বিপিন নায়ারের মাধ্যমে দাখিল করা আবেদনে ছাত্রটি দাবি করেছেন:
মানসিক অবসাদ: খড়্গপুরে পরিবার থেকে দূরে থাকা, আঞ্চলিক বন্ধু না পাওয়া এবং উপযুক্ত চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় তাঁর মানসিক অবসাদ তীব্র হয়েছে।
বিপজ্জনক পরিস্থিতি: এর ফলস্বরূপ তাঁর মধ্যে আত্মঘাতী প্রবণতা দেখা দিয়েছে এবং পড়াশোনা বা দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসার যুক্তি: খড়্গপুরের নিজস্ব হাসপাতাল, বি.সি. রায় টেকনোলজি হাসপাতালও ছাত্রটিকে দিল্লিতে অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছে। কলকাতায় RTMS সুবিধা থাকলেও খরচ অত্যন্ত বেশি, যেখানে আইআইটি দিল্লি থেকে মাত্র ৭ কিমি দূরে এইমস তা সুলভে দেয়।
ট্রান্সফার নিয়ম এবং আইআইটি কর্তৃপক্ষের অবস্থান
আবেদনকারী ছাত্রের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসাজনিত কারণে স্নাতক ছাত্রদের এক আইআইটি থেকে অন্যটিতে ট্রান্সফার দেওয়া যায়।
কিন্তু JEE (Advanced)-এর চেয়ারম্যান সুদীপ্ত চক্রবর্তী ছাত্রটির আবেদন চারটি প্রধান কারণে খারিজ করেছেন:
প্রয়োজনীয় JEE র্যাঙ্ক তাঁর নেই।
পাঠ্যক্রমের পার্থক্য রয়েছে।
B.Arch এবং B.Tech ভর্তি প্রক্রিয়া সমান নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর্কিটেকচার ছাত্রদের ক্ষেত্রে ট্রান্সফার নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
সুপ্রিম কোর্টের পদক্ষেপ
বিচারপতি বি.ভি. নাগরত্না ও বিচারপতি আর. মহাদেবনের বেঞ্চ ইতিমধ্যেই এই স্পর্শকাতর মামলাটির ভিত্তিতে আইআইটি খড়্গপুর, আইআইটি দিল্লি ও এইমস দিল্লিকে নোটিশ পাঠিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১০ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানসিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে এই মামলাটি জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।