চাকরি ছাড়লেই মিলবে গ্র্যাচুইটি! নতুন শ্রম কোডে বড় বদল, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য এল দারুণ সুখবর

দেশের কোটি কোটি চাকরিজীবীর আর্থিক নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করতে এবং সামাজিক সুরক্ষার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে নতুন শ্রম কোডের নিয়মে গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত বিধিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন যেকোনো সংস্থায় গ্র্যাচুইটির সুবিধা পেতে গেলে ন্যূনতম ৫ বছর টানা চাকরি করার দীর্ঘ ও কঠোর নিয়ম বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু বর্তমান কর্মসংস্কৃতির পরিবর্তন এবং চুক্তিভিত্তিক কাজের রমরমা বাজারকে মাথায় রেখে মোদি সরকারের নতুন শ্রম কোডে এই নিয়মে বড়সড় শিথিলতা আনা হয়েছে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক বা ফিক্সড টার্ম এমপ্লয়মেন্টে কাজ করা কর্মীদের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক স্বস্তির খবর। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা আর দীর্ঘ অপেক্ষার বেড়াজালে পড়বেন না; কোনো সংস্থায় টানা মাত্র ১ বছর কাজ পূর্ণ করলেই তারা আনুপাতিক বা প্রো-রাটা (Pro-rata) ভিত্তিতে গ্র্যাচুইটি পাওয়ার আইনি অধিকার অর্জন করবেন। এর ফলে আজ তরুণ প্রজন্ম বা যারা ঘন ঘন চাকরি পরিবর্তন করেন, তাদের আর ৫ বছরের খড়্গ মাথায় নিয়ে কাটাতে হবে না; চাকরির মেয়াদ কম হলেও এক বছরের পরিশ্রমের সুফল সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে এসে পৌঁছবে।
অবশ্য স্থায়ী বা মূল ক্যাটাগরির কর্মচারীদের ক্ষেত্রে গ্র্যাচুইটি পাওয়ার ন্যূনতম ৫ বছরের পূর্বশর্ত আগের মতো সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ স্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রে কোনো একটি নির্দিষ্ট সংস্থায় একটানা পাঁচ বছর কাজ করার শর্তটি বহাল থাকছে। নতুন এই সংশোধিত নিয়মের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা, যারা আগে পাঁচ বছরের কম সময় কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করে চাকরি ছাড়লে গ্র্যাচুইটির পুরো তহবিল থেকে বঞ্চিত হতেন। এখন থেকে তারা যেকোনো সংস্থায় ১ বছর পূর্ণ করলেই নিজেদের প্রাপ্য পাওনা বুঝে নিতে পারবেন। প্রখ্যাত ‘পেমেন্ট অফ গ্র্যাচুইটি’ আইন অনুযায়ী, একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মীর ন্যায্য পাওনা আটকে রাখার কোনো আইনি অধিকার কোনো কোম্পানির কর্তৃপক্ষের নেই। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এই নিয়মের ব্যতিক্রমও রয়েছে। যদি কোনো কর্মী কর্মক্ষেত্রে শারীরিক আক্রমণ, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হুমকি প্রদর্শন, যৌন হেনস্থা কিংবা সংস্থার অভ্যন্তরীণ কোড অফ কন্ডাক্ট বা নীতিগুলি গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেন, তবে প্রশাসনিক তদন্ত ও ব্যবস্থা নিয়ে তার গ্র্যাচুইটি আটকে দেওয়া যেতে পারে।
পাশাপাশি, কোনো কর্মীর স্পষ্ট গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত ভুলের কারণে যদি সংশ্লিষ্ট সংস্থার বড় ধরনের কোনো আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়, তবে সেই ক্ষতিপূরণ বাবদ গ্র্যাচুইটির টাকা থেকে প্রয়োজনীয় অংশ কেটে নেওয়ার আইনি সুযোগও কোম্পানিগুলোর হাতে রাখা হয়েছে। তবে কোম্পানির স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ কিছু কড়া শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন—জালিয়াতি, ঘুষ নেওয়া, অফিসিয়াল নথি জালিয়াতি, চুরি বা যেকোনো ধরনের আর্থিক তছরুপে কোনো কর্মী যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা সেই কর্মীর সম্পূর্ণ গ্র্যাচুইটি এক ধাক্কায় পুরোপুরি বাজেয়াপ্ত করার অধিকার রাখে। তবে অভিযোগ থাকলেই কোনো সংস্থা আইনি প্রক্রিয়া বা নিয়মনীতি না মেনে একতরফাভাবে কারও টাকা আটকে রাখতে পারবে না। টাকা কাটার বা আটকার আগে অবশ্যই সংস্থাকে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show cause notice) পাঠাতে হবে এবং অভিযুক্ত কর্মীকে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করার উপযুক্ত সুযোগ দিতে হবে। মূল আর্থিক ক্ষতির পরিমাণের বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা কেটে নেওয়া যাবে না এবং হিসাব মেটানোর পর অবশিষ্ট গ্র্যাচুইটির সমস্ত টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া প্রতিটি সংস্থার জন্য কঠোর আইনি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।