চলন্ত হেলিকপ্টারের ডানায় দাঁড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি! রুশ স্টান্টম্যানের এমন রোমহর্ষক কাণ্ড জেনে শিউরে উঠবে বুক!

সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে রকমারি স্টান্ট বা ভয়ের ভিডিও তো আকছারই দেখা যায়, কিন্তু রাশিয়ার এক দুঃসাহসী স্টান্টম্যানের সাম্প্রতিক কীর্তি সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে ইন্টারনেটে এক তীব্র ঝড়ের সৃষ্টি করেছে। জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে সম্পাদিত এই ভয়ংকর স্টান্টটি দেখে বিশ্বের তাবড় ও অভিজ্ঞ স্টান্টম্যানদের বুকও কেঁপে উঠেছে। মৃত্যুভয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে করা এই দুর্ধর্ষ কর্মকাণ্ড বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে লাখ লাখ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
রাশিয়ার রোস্তভ-অন-ডনের বাসিন্দা ইয়েভজেনি চেবোতারেভ একজন অত্যন্ত প্রখ্যাত ও আলোচিত স্টান্টম্যান। তিনি বরাবরই তাঁর বিপজ্জনক এবং জীবনঘাতী নানা কীর্তির জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তাঁর করা স্টান্টগুলিতে প্রায়শই দ্রুতগতির ভারী যানবাহন, গাড়ি এবং বিপজ্জনক যন্ত্রপাতির ব্যবহার দেখা যায়। অতীতে এই ধরনের রোমাঞ্চকর কাজ করতে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকবার মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, এমনকি তাঁর শরীরের একাধিক হাড়ও ভেঙেছে। কিন্তু এত বড় আঘাত ও দুর্ঘটনার পরেও তাঁর অদম্য সাহস, পাগলামি এবং রোমাঞ্চের নেশা একটুও কমেনি, বরং দিনদিন তা আরও বেড়েই চলেছে।
ভাইরাল হওয়া এই চাঞ্চল্যকর ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, ইয়েভজেনি একেবারে কোনো সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্যের মতো একটি চলমান হেলিকপ্টারের ঘুরন্ত রোটর ব্লেড বা ডানার উপর অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। নিখুঁতভাবে এই প্রাণঘাতী স্টান্টটি সম্পন্ন করার জন্য তাঁকে একটি বিশেষ হারনেসের সাহায্যে ক্রেন থেকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এখানে সামান্যতম ভুল পদক্ষেপ বা একটু এদিক-ওদিক হলেই তাঁর জীবন নিমেষে কেড়ে নিতে পারত এবং তিনি মুহূর্তের মধ্যে হেলিকপ্টারের ঘূর্ণায়মান ডানার নিচে পিষ্ট হয়ে চিরতরে শেষ হয়ে যেতে পারতেন।
অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ এই ভিডিওটি ইতিমধ্যে ইনস্টাগ্রামে ৭২ লক্ষেরও বেশি মানুষ দেখেছেন। ভিডিওটি শেয়ার করার সময় ইয়েভজেনি নিজেই ক্যাপশনে লিখেছেন, “আমার সবসময় একটি নিজস্ব হেলিকপ্টারের মালিক হওয়ার স্বপ্ন ছিল, এবার আমি একটি প্লেন চাই।” একই সঙ্গে তিনি তাঁর অগুনতি অনুগামীদের উদ্দেশ্যে এও স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, যথাযথ পেশাদার প্রশিক্ষণ ছাড়া যেন কেউ ভুলেও এই ধরনের বিপজ্জনক স্টান্ট করার চেষ্টা না করেন। কমেন্ট সেকশনে সাধারণ নেটিজেনরা রীতিমতো বিস্ময় ও ক্ষোভ মিশিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একজন ব্যবহারকারী অবাক হয়ে লিখেছেন, “এই লোকটা সত্যি একেবারে পাগল।” আরেকজন ইউজার মন্তব্য করেছেন, “পাগলামিরও একটা নির্দিষ্ট সীমা থাকে, ভাই।” তৃতীয় এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সে যে ধরনের বিপজ্জনক স্টান্ট করছে, তা দেখলে যে কারোরই গা শিউরে উঠবে।”