চলন্ত ট্রেনে সাড়ে ১৬ লক্ষ টাকার মেগা চুরি! শ্বশুরবাড়িতে লুকিয়ে থেকেও শেষরক্ষা হলো না, হাতেনাতে ধরা পড়ল চোর

চলন্ত ট্রেন থেকে প্রায় সাড়ে ষোলো লক্ষ টাকার সোনা, রুপোর কয়েন এবং নগদ টাকা চুরির ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল রেল সুরক্ষা বাহিনী (RPF)। ঘটনার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে নিখুঁত তদন্ত চালিয়ে মূল অভিযুক্তসহ চুরি যাওয়া সোনা কেনা এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে খোয়া যাওয়া মূল্যবান সামগ্রীর বড় একটি অংশও।
ঠিক কী ঘটেছিল?
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ১২৩৭৮ ডাউন পদাতিক এক্সপ্রেস যখন কোটালপুকুর স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল, সেই সময় ট্রেনের এস-১ (S-1) কোচ থেকে এক যাত্রীর মূল্যবান সামগ্রীভর্তি ব্যাগ চুরি যায়। সর্বস্ব হারিয়ে ভেঙে পড়া ওই যাত্রী দ্রুত ‘রেল মাদাদ’ (Rail Madad) পোর্টালে একটি অনলাইন অভিযোগ দায়ের করেন। সাধারণ যাত্রীর সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে ময়দানে নামে RPF।
তদন্ত ও নাটকীয় গ্রেফতারি
ঘটনার কিনারা করতে পাকুড় ও বারহারওয়ার RPF পোস্ট এবং বর্ধমানের CIB আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ যৌথ দল গঠন করা হয়। কোটালপুকুর স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ধান পান তদন্তকারীরা। ফুটেজে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি প্ল্যাটফর্মের উলটো দিকের দরজা দিয়ে ট্রেনের এস-১ কোচে উঠেছিল।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাজমহল থানার পুলিশের সহযোগিতায় নাগেশ্বর বাগ গ্রামে সন্দেহভাজনের শ্বশুরবাড়িতে আচমকা হানা দেয় যৌথ বাহিনী। সেখান থেকেই পাকড়াও করা হয় মূল অভিযুক্তকে। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি গোলাপি রঙের গয়নার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে ছিল ভাঙা সোনার চূড়, বালা, হার, আংটি, চেন, লকেট, শিশুর বাজু, দেবতার মুকুট, কাঁচা সোনা, রুপোর কয়েন এবং ১ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা নগদ।
ধরা পড়ল সোনা ক্রেতা ব্যবসায়ীও
পুলিশি জেরায় ধৃত ব্যক্তি স্বীকার করে যে, চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে দুটি সোনার চেন ও দু’জোড়া সোনার কানের দুল সে স্থানীয় এক গয়নার দোকানে ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছিল। এই স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে রাজমহলের লালু মার্কেটের একটি সোনার দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ওই ব্যবসায়ীকেও গ্রেফতার করা হয় এবং তার দোকান থেকেই বাকি চুরি যাওয়া সোনার সমস্ত সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। রেলের এই দ্রুত পদক্ষেপে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে।