চতুর্থী থেকে সপ্তমী ভাসবে তিলোত্তমা? পুজোয় বৃষ্টির ভ্রুকুটি নিয়ে হাওয়া অফিসের মেগা আপডেট

উৎসবের মরসুমে ফের বৃষ্টির কালো মেঘ। এ বারের দুর্গাপুজোয় কি স্বস্তিতে ঠাকুর দেখতে পাবেন সাধারণ মানুষ? নাকি আকাশে শরতের রোদ্দুরের পরিবর্তে ফের দেখা মিলবে বর্ষার মেঘের? এই সমস্ত জল্পনার মাঝেই আবহাওয়া দফতর যা জানাল, তাতে খুব একটা স্বস্তির খবর মিলল না। হাওয়া অফিস সূত্রে আশঙ্কা করা হচ্ছে, নতুন করে একটি নিম্নচাপ তৈরির জেরে পুজোয় দফায় দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের জেরে পুজোবাজার বা শপিং করতে গিয়ে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন আমজনতা। এই পরিস্থিতিতে দুর্গাপুজোর ঠিক কোন দিনগুলিতে দুর্যোগের খাঁড়া ঝুলছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম উৎকণ্ঠা।
মহালয়া ও পুজোর নিঘর্গন্টে আবহাওয়ার পূর্বাভাস
শনিবার মহালয়া। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিন অর্থাৎ শনিবার কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এরপরে কিছুটা স্বস্তি মিলে রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ও খটখটে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু স্বস্তি বেশি দিন স্থায়ী হচ্ছে না। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবার আন্দামান সাগরে একটি নতুন নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে। এই নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতি এবং তীব্রতা স্পষ্ট না হলেও এর প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে পুজোর দিনগুলিতে।
চতুর্থী ও পঞ্চমী: এই দুই দিনে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। উপকূলবর্তী এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হতে পারে।
ষষ্ঠী ও সপ্তমী: সপ্তমীর দিনে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় হালকা থেকে মাঝারি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশপাশি, দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিরও এক-দু’টি স্থানে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে।
পরবর্তী দিনগুলি: আগামী ১৮ ও ১৯ অক্টোবর (অর্থাৎ ১ ও ২ কার্তিক) দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
কোন কোন অঞ্চল থেকে বিদায় নিচ্ছে বর্ষা?
অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষার বিদায় পর্ব শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্রের কিছু অংশ, গোয়া, কর্ণাটক, তেলেঙ্গনা, ওড়িশার কিছু অংশ, ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তীসগঢ়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে বর্ষা ইতিমধ্যে বিদায় নিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, পূর্ব ভারত ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশ কিছু অংশ থেকেও আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে বর্ষা পাকাপাকিভাবে বিদায় নেওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে বর্ষার বিদায় ঘণ্টা বাজলেও নতুন নিম্নচাপের জেরে পুজোর আনন্দ মাটি হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাতে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে উৎসবপ্রেমী বাঙালি মাত্রেই।