ঘুম ভাঙলেই কি গলা শুকিয়ে যায়? সামান্য এই অভ্যাসেই হতে পারে ক্যানসার থেকে হার্ট অ্যাটাকের বড় ঝুঁকি!

ঘুমের মধ্যে মুখ হাঁ করে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস বা মাউথ ব্রিদিংয়ের সমস্যা অনেকেরই অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয় বলে মনে হয়। বেশিরভাগ মানুষেরই ভুল ধারণা রয়েছে যে, বাতাস নাক দিয়ে যাক বা মুখ দিয়ে, তাতে শরীরে তো পর্যাপ্ত অক্সিজেন ঠিকই প্রবেশ করছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা পত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত ও ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবদেহের নাকটি বিশেষভাবে তৈরি হয়েছে শুধুমাত্র শ্বাস নেওয়ার জন্য, আর মুখের মূল কাজ হলো খাবার খাওয়া ও কথা বলা।

আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশন এবং একাধিক খ্যাতনামা মেডিক্যাল জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, নাকের ভেতরের প্রাকৃতিক মিউকাস ও ক্ষুদ্র রোমগুলো বাইরের ধূলিকণা, ধোঁয়া ও ক্ষতিকর ব্যাকটিরিয়া আটকে দিয়ে বাতাসকে নিখুঁতভাবে ফিল্টার ও আর্দ্র করে। এর পাশাপাশি, নাকের সাইনাসে উৎপাদিত হয় অত্যন্ত উপকারী নাইট্রিক অক্সাইড গ্যাস। নাক দিয়ে শ্বাস নিলে এই গ্যাস সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছে যায় এবং রক্তে প্রায় ১০ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বেশি অক্সিজেন সরবরাহ করতে বিশেষ সাহায্য করে। কিন্তু মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে এই প্রাকৃতিক ফিল্টার বা নাইট্রিক অক্সাইডের কোনো সুরক্ষামূলক সুবিধাই পাওয়া যায় না।

দীর্ঘদিন ধরে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস থাকলে শরীরে অত্যন্ত ক্ষতিকর পরিবর্তন ঘটে। ডেন্টাল ও অর্থোডন্টিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ খোলা রাখলে জিভের স্বাভাবিক অবস্থান নিচে নেমে যায়, ফলে মুখের তালু সরু হয়ে যায়, মুখ লম্বাটে দেখায় এবং দাঁত উঁচু-নিচু বা বাঁকাভাবে গজাতে শুরু করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘অ্যাডেনয়েড ফেসিজ’ বলা হয়। এছাড়া সারারাত মুখ খোলা থাকলে মুখের লালারস শুকিয়ে যায়, ফলে দাঁতে ক্যাভিটি, মুখের দুর্গন্ধ এবং মাড়ির ইনফেকশন বাড়ে। রেসপিরেটরি মেডিসিন জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে শ্বাসনালীর পথ সংকুচিত হয়ে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া ও নাক ডাকার তীব্র সমস্যা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে সারাদিন চরম ক্লান্তি এবং রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।