হার্ট অ্যানিউরিজমের ছোবলে শেষ সব আলো! আচমকাই না ফেরার দেশে ‘ডুড, হোয়্যার’স মাই কার?’ স্টার

হলিউড বিনোদন জগতে বড়সড় শোকের ছায়া। প্রয়াত হয়েছেন জনপ্রিয় মার্কিন মডেল, সুন্দরী প্রতিযোগিতার জয়ী এবং ‘ডুড, হোয়্যার’স মাই কার?’ (Dude, Where’s My Car?) খ্যাত প্রখ্যাত অভিনেত্রী কিমারি জনসন (Kimari Johnson)। গত ২৭ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের বাসভবনেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর অনুরাগীরা ও সতীর্থ শিল্পীরা।
চিকিৎসকদের মতে ‘হার্ট অ্যানিউরিজম’ই কেড়ে নিল প্রাণ
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নিকটবর্তী সিডার্স-সিনাই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান যে তিনি ‘হার্ট অ্যানিউরিজম কন্ডিশন’ (Heart Aneurysm) বা হৃদপিণ্ডের জটিল সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।
মেডিকেল সায়েন্সের সংজ্ঞা অনুযায়ী, হার্ট বা অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম হলো হৃদপিণ্ডের প্রধান ধমনীর (Aorta) প্রাচীরে সৃষ্ট এক ধরনের বিপজ্জনক স্ফীতি বা দুর্বল অংশ, যা হঠাৎ ফেটে গিয়ে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তপাত ঘটাতে পারে। সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হয়নি, চিকিৎসকদের সমস্ত আশঙ্কা সত্যি করে নিজের বাড়িতেই চিরশান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিমারি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকের ঝড়
অনলাইনে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই সামাজিক মাধ্যম জুড়ে শুরু হয় শোকবার্তা। ‘এক্স’ (অধুনা টুইটার) থেকে শুরু করে ইনস্টাগ্রাম—সর্বত্র প্রিয় অভিনেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নেটিজেনরা।
এক ভক্ত আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন, “একটি সুন্দর আত্মা এত তাড়াতাড়ি আমাদের ছেড়ে চলে গেল।” অভিনেতা জোয়ি ঘোলাম লিখেছেন, “আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আপনাকে কাছ থেকে জানার এবং দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। আপনি ভেতর এবং বাইরে—উভয় দিক থেকেই একজন অসাধারণ মানুষ ছিলেন।” তাঁর শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টের কমেন্ট বক্সেও হাজার হাজার হার্ট ইমোজি ও সমবেদনার বার্তা পাঠিয়েছেন শুভানুধ্যায়ীরা।
একঝলকে কিমারি জনসনের বর্ণময় জীবন
১৯৭৬ সালের ৮ এপ্রিল পেনসিলভেনিয়ার পিটসবার্গে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কিমারি। পেনসিলভেনিয়ার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা ও শিশু মনোবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জনের পর উন্নত কেরিয়ারের টানে তিনি চলে যান নিউ ইয়র্ক সিটিতে। জীবনের শুরুতে তিনি কিছু সময় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবেও কাজ করেছিলেন। সেই সময়ই এক বিখ্যাত মডেলিং এজেন্সির নজরে আসেন তিনি। পরবর্তীতে মডেলিং, অভিনয় এবং বিভিন্ন সুন্দরী প্রতিযোগিতায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে এক সফল ব্যবসায়ী ও বহুমুখী প্রতিভাময়ী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কিমারি। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল বিনোদন জগতের।