‘বাকি অংশও কি ধংস করতে হবে?’ ইরানে নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প!

ইরানে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কা নিয়ে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যে অমাবস্যা বা নতুন চাঁদের রাত। রাতের আকাশে চাঁদের আলো না থাকায় ওই সময়টি সামরিক অভিযানের জন্য অত্যন্ত অনুকূল হতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। তবে ইরানে সরাসরি হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে তিনি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তবে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। কিন্তু হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। খুব শিগগিরই আপনারা এ বিষয়ে জানতে পারবেন।’
এদিকে মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখলেও এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশ মেলেনি। অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপে সীমিত পরিসরে একটি হামলা চালিয়েছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এটি ছিল পুরোপুরি ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ।
ইরাককে হামলার ঘাঁটি না করার কঠোর আহ্বান
উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফোনালাপে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার না করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কড়া আহ্বান জানিয়েছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী।
ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের কোনো উৎক্ষেপণস্থল বা ঘাঁটি হিসেবে ইরাকের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আল-জাইদির সরকার।
ইরানের ৭ শর্ত ও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের মধ্যস্থতায় নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছে নতুন একটি চুক্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সরাসরি কোনো আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর ৭টি শর্ত মানতে হবে বলে শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, তেহরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—
যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
বিদেশি ব্যাংকে জব্দ করা ইরানের সমস্ত সম্পদ মুক্ত করা।
অতীতে যুদ্ধের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
রেজাইয়ি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমাদের এই সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা হরমুজ প্রণালি খুলব না, এমনকি কোনো আলোচনাতেও বসব না।’ অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাফ কথা— যে কোনো ধরনের প্রাথমিক আলোচনায় অবশ্যই পারমাণবিক ইস্যুগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
কাতারের মধ্যস্থতা ও যুদ্ধের আশঙ্কা
এই চরম সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার অবসান ঘটাতে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। গত সোমবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান সফর করেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি খসড়া চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো দুই পক্ষই বর্তমানে খতিয়ে দেখছে এবং আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বৈঠক, সেন্টকমের প্রস্তুতি এবং ইরানের পাল্টা হুংকারে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।