ঘুম উড়ল গ্রামের! গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল থেকে পাকড়াও উন্মত্ত কানাই, আতঙ্কে কাঁপছে বীরভূম

বীরভূমের রাজনগর থানার কবিলাসপুর গ্রামে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনা। সোমবার হঠাৎই মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তির তাণ্ডবে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো গ্রাম। শাবল, লাঠি ও বাঁশ নিয়ে নির্বিচারে হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্যক্তি এবং শিশু ও মহিলাসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। এই আকস্মিক তাণ্ডবে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম কানাই কোনাই, যিনি কবিলাসপুর গ্রামেরই বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে পরিচিত। সোমবার হঠাৎই তিনি ‘রুদ্রমূর্তি’ ধারণ করে হাতে নানা অস্ত্র নিয়ে গ্রামজুড়ে তাণ্ডব শুরু করেন। সামনে যাকেই পেয়েছেন, তাঁকেই বেধড়ক মারধর করেন। ভিন্ গ্রাম থেকে আসা ইব্রাহিম শেখ (৪৮) নামের এক ব্যক্তি সেই সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কানাইয়ের সামনে পড়ে যান। তাঁকে শাবল দিয়ে এমনভাবে ক্ষতবিক্ষত করা হয় যে, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
হামলার শিকার এক স্থানীয় গৃহবধূ জানান, তিনি যখন রান্নাঘরে কাজ করছিলেন, তখন হঠাৎই অস্ত্র হাতে ঢুকে পড়ে কানাই। তাঁর মাথায় আঘাত করার পাশাপাশি তাঁর ঠাকুমা, পিসি এবং দুটি ছোট শিশুর ওপরও নৃশংস হামলা চালিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয় সে। একের পর এক প্রতিবেশীকে রক্তাক্ত করে সে চম্পট দেয় এবং ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়েই তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রাজনগর থানার পুলিশ। গ্রামের প্রবেশপথগুলিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় সোমবার গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল থেকে ওই অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়। জখমদের সিউড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। এই পৈশাচিক ঘটনার পর থেকে কবিলাসপুর গ্রামজুড়ে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।